প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নওগাঁর মান্দায় সরকারি অর্থায়নে পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজের জন্য বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের কোচড়া বাদলঘাটা হিন্দুপাড়া পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিণ কোচড়া বাদলঘাটা পর্যন্ত ১ হাজার ৭৩০ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
এদিকে, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোছা. পারুল জানিয়েছেন, কাজ করতে গিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ২৪ লাখ টাকা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে নিম্নমানের ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, সড়ক নির্মাণকাজে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তার সাব-বেস ও বেস টাইপের কাজেও বালু ও খোয়া সঠিক অনুপাতে মেশানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
কোচড়া বাদলঘাটা গ্রামের শামসুল আলম মোল্লা মন্তব্য করেন, "ঠিকাদার রাস্তা করে চলে যাবেন, কিন্তু আমরাই এই রাস্তা ব্যবহার করব। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হবে।"
একই গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, "রাস্তাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। সরকার প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে, পাকা হওয়ার পরও রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।"
গ্রামের কান্তি কুমার সরকার জানান, "সরকারি কাজে ভালো মানের উপকরণ ব্যবহার করার কথা। কিন্তু এখানে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে দুই ও তিন নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ নিয়ে দুই গ্রামের মানুষেরই আপত্তি রয়েছে।"
অভিযোগের বিষয়ে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোছা. পারুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "কাজ করতে গিয়ে আমি ইতোমধ্যে ২৪ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছি। সাময়িকভাবে আনা নিম্নমানের ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ইটভাটার মালিকদের কারসাজির কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমি আগে যে ভাটা থেকে ইট নিয়েছিলাম, সেখান থেকে ইট নেওয়া বন্ধ করায় অন্য ভাটার মালিক ও স্থানীয় কিছু লোক উসকানি দিয়ে এ সমস্যা তৈরি করছে।"
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলীর লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন