প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন জ্বালানি করিডোর গড়ে তুলতে যাচ্ছে ইরাক, সিরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ চার দশক ধরে বন্ধ থাকা কিরকুক-বানিয়াস তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর পরিকল্পনা এখন শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী সপ্তাহে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী, এটি শুধু জ্বালানি বিষয়ক এক পরিবর্তন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ গড়ে তুলতে যাচ্ছে ইরাক, সিরিয়া, এবং যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে, ইরাকের কিরকুক থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর বানিয়াস পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ ঐতিহাসিক তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এই তিন দেশ। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর মাধ্যমে ইরাকের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক সূত্রের এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘকাল অব্যবহৃত কিরকুক-টু-বানিয়াস পাইপলাইনের পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে এই বিষয়ে চুক্তি অথবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া ও ইরাক বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক চুক্তির বিভিন্ন দিক চূড়ান্ত করতে কাজ করছেন।
১৯৫২ সালে নির্মিত কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইনটি প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতো। তবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সিরিয়া ইরানের পক্ষ নেয়ায়, আশির দশকে বাগদাদ এটি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের সময় পাইপলাইনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে, হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়ে যাওয়ায় বিকল্প রফতানির পথ অনুসন্ধানে তৎপর হয়েছে ইরাক। যুদ্ধের সময়, সীমিত পরিমাণ তেল ট্রাকে করে সিরিয়ায় পাঠানো হলেও, তা চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ছিল না। তাই, পুরোনো এই পাইপলাইনটি কার্যকর করাকে বাগদাদ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে সংস্কার শেষে এই পাইপলাইনটি চালু হতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পটি শুধু জ্বালানি পরিবহনের উদ্যোগ নয়, বরং ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প গড়ে তোলা এবং সিরিয়াকে নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যুক্ত করার একটি কৌশলও। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও কূটনৈতিক ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলেও তাদের অভিমত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন