প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুমিল্লার লালমাটিয়ায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তারা নিশ্চিত করেছে যে, অটোরিকশাচালক সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। বর্তমানে ঘটনার বিস্তারিত আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
তিনি জানান, ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর (উত্তর পাড়া) গ্রামে ধানক্ষেতের আইলের পাশে একটি মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়ে জাতীয় জরুরী সেবা (৯৯৯) এ কল আসে। লালমাই থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে শনাক্তকরণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করে। পরে, ভিকটিমের পিতা মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং জানা যায়, ভিকটিমের নাম জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। তার স্থায়ী ঠিকানা যশোর জেলা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া আরও জানান, ভিকটিম তার পিতার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন। জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে আটক করা হয়।
সুমন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। চালক সুমন ৫০০ টাকা ভাড়া চাইলে শেষ পর্যন্ত ৩০০ টাকায় যাওয়ার চুক্তি হয়। পথে একটি দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে চালকের জন্য রুটি ও কলা কিনে আনে তাজমিন।
পরে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন করে চাঁদপুর সড়কের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। এরপর বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকায় পৌঁছে অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। জায়গাটি চিনতে না পেরে তাজমিন প্রশ্ন করলে সুমন জানায়, এটি রেসকোর্স নয়, অন্য জায়গা। তখন বিপদের আশঙ্কায় অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন।
এ সময় অটোরিকশাচালক সুমন তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করলে তাজমিন চিৎকার শুরু করে। তখন সুমন গামছা দিয়ে কিশোরীটির গলা পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে সুমন তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ধানক্ষেতে নিয়ে তাজমিনের মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
হত্যার পর তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয় সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে কাঁচিকাটা মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে সে। এরপর অন্য একটি ভাড়ায় চালিত অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে পুকুরপাড়ের একটি জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে সেখান থেকে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায় সুমন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদের ওই জঙ্গল থেকে তাজমিনের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার ভ্যানিটি ব্যাগও।
ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া আরও জানান, ঘটনার রাতে ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমিন তার বাবার সঙ্গে নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করেছিল। তবে তার বাবা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি দেখতে পাননি। ভোরের দিকে লোকেশনটি দেখে তিনি ওই এলাকায় মেয়েকে খুঁজতে যান।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে। ওই ফুটেজে তাজমিনকে অটোরিকশায় শান্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। অটোরিকশায় অন্য কেউ ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত চালক সুমন ছাড়া অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, তাজমিন গত ৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ থাকলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করা হয়নি। বাসায় না জানিয়ে ওই চার দিন সে কোথায় ছিল, কার সঙ্গে ছিল কিংবা কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আসামি সুমন স্বীকারোক্তি দিলেও ধর্ষণের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। এছাড়া উদ্ধার হওয়া আইফোনটি তাজমিনকে তার পরিবার কিনে দিয়েছিল কি না, তাও তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন