প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসী কর্তৃক কেনা জমি দখল করার চেষ্টা এবং ঘরের বেড়া ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে স্থানীয় একজন ব্যক্তি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান জমির মালিকানা দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ নোটিশ প্রদান করেছে।
মামলার বাদী মো. মানিক মিয়া (৬৫) মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মামলার আসামিরা হলেন ওই ইউনিয়নের আন্ধারমানিক এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল মিয়া (৬০) এবং পৌরসভার বহেরাতলা এলাকার মো. রতন মিয়া (৫৫)। এছাড়া ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি মঠবাড়িয়া এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমপি মামলা নম্বর ১৮৮/২০২৬ (মঠবাড়িয়া) হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগ অনুযায়ী, মঠবাড়িয়া মৌজার ২১ নম্বর জে.এল.-ভুক্ত সাবেক ১৫৬ নম্বর খতিয়ানের ১১৫৬ নম্বর দাগের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান। বাদীর দাবি, জমিটি তার ভোগদখলে ছিল এবং পরে তিনি এটি প্রবাসী জাহিদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ আগস্ট রাত ৮টা থেকে পরদিন রাত ২টার মধ্যে আসামিরা লোকজন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা টিনের বেড়া ভেঙে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যান। বাদী দাবি করেছেন, এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাধা দিলে প্রবাসী জাহিদুলের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মানিক মিয়া জানান, নগদ অর্থের প্রয়োজনের কারণে তিনি জমিটি জাহিদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেছেন। জাহিদুল প্রবাসে থাকায় তার পক্ষে মামলা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুঠোফোনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি মানিক মিয়ার কাছ থেকে কিনেছেন। তিনি দাবি করেন, জমি কেনার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী নামজারি সম্পন্ন করেছেন।
জাহিদুলের অভিযোগ, ১৪৪ ধারার আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও জমিতে থাকা দুটি ঘর ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, জমি কেনার পর থেকে তারা চাপ, হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখে রয়েছেন।
অন্যদিকে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, জমিটি তার নিজস্ব। স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে এবং সালিশের রোয়েদাদে মানিক মিয়ার জমিটিতে কোনো স্বত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "মানিক মিয়া নিজের প্রাপ্যের চেয়ে বেশি জমি বিক্রি করেছেন।"
জালাল মিয়া বলেন, মামলা হয়েছে। আদালতে দুই পক্ষই নিজেদের কাগজপত্র জমা দেবে এবং মামলার রায়ে যা নির্ধারিত হবে, তা তিনি মেনে নেবেন।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, জমিটি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আদেশ রয়েছে। তিনি বলেন, "জালাল উদ্দীন এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, তবে উচ্চ আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়ে স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে।" জমি নিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন