প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলছে। এই বিশাল মঞ্চে, যেখানে ১৯৩টি দেশ অংশগ্রহণ করছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মার্কিন টেক জায়ান্ট ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আলবানিজের অভিযোগ অনুসারে, ওপেনএআই-এর তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেয়ার সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করেছিল। ওপেনএআই এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা সরকারকে অবহিত করেছে চলতি মাসের শুরুতে।
তবে, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে যে এই এআই লঙ্ঘনের ঘটনায় কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হয়নি। অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের সহায়তায় তদন্ত চলছে, যাতে জানা যায় এই এজেন্ট কীভাবে সরকারের সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য তিনটি প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশ করেছে। প্রভাবিত হওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, ভিক্টোরিয়ান ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ, এবং নিউ সাউথ ওয়েলস ব্যুরো অফ ক্রাইম স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড রিসার্চ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতিকে ‘স্পষ্টতই অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। আলবানিজ বলেন, তিনি ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টমানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার চরম উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, কোম্পানির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ঘটনাটি জানাতে অতিরিক্ত সময় নেওয়ার ঘটনায় তিনি তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বরের আগে কোনো ধরনের নোটিফিকেশন পাওয়া যায়নি। এই নোটিফিকেশনটি একটি পাবলিক ইমেইল ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল, যা দিনে মাত্র একবার চেক করা হয়। ফলে ১১ সেপ্টেম্বরের আগে ইমেইলটি দেখা হয়নি। পরবর্তীতে ১৫ সেপ্টেম্বর সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ান সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারে রিপোর্ট করে। এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ‘আইনি দিক’ খতিয়ে দেখতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটেছিল হ্যাকিং
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস এবং ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার বেন ক্যারল জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ তাদের জানিয়েছেন যে ওপেনএআই-এর এই লঙ্ঘনের ঘটনাটি রাজ্যের ওয়েবসাইটগুলোকে প্রভাবিত করেছে।
উপ-প্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মারলেস জানান, এআই এজেন্টটিকে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণার জন্য একটি ‘সাধারণ কাজ’ দেওয়া হয়েছিল। কাজ করতে গিয়ে এটি মেডিকেয়ার পোর্টালসহ অন্যান্য ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করে।
মারলেস বলেন, অন্যান্য সাইটগুলোর সঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেয়ার পোর্টালের ক্ষেত্রে তথ্য চেয়ে না পেয়ে এটি কার্যকরভাবে পোর্টালটি হ্যাক করে তথ্য হাতিয়ে নেয়। ওপেনএআই-এর মুখপাত্র ড্রু পুসারি জানিয়েছেন, কোম্পানিটি মডেলের অফলাইন কার্যকলাপ নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা চালাচ্ছে এবং তদন্তে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে যে প্রাথমিক পর্যালোচনায় কোনো রোগীর রেকর্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য অ্যাক্সেস করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে, ডিজিটাল রাইটস ওয়াচ এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এআই সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও কঠোর আইন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন