প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফেনীতে টানা দুই দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জনজীবনে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। অসহনীয় গরমের কারণে ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফেনীতে দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফেনীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় গরমের অনুভূতি ছিল বেশি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজ ও তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় বাইরে চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তিও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে রিকশা ও অটোরিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা ব্যক্তিরা বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ফেনী শহরের বিভিন্ন সড়কে দেখা যায়, প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না। বাইরে বের হওয়া মানুষের মধ্যে কেউ কেউ ছাতা ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে পথের পাশে দাঁড়িয়ে পানি পান করে কিছুটা স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তীব্র গরমের কারণে রিকশাচালকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় রোদে রিকশা চালানোর ফলে শরীর ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। বিদ্যুতের লোডশেডিং হওয়ায় ঘরে থাকা মানুষকেও গরমের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এনামুল হক নামের এক পথচারী বলেন, "তীব্র গরমে ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। তারপরও কাজের সুবাদে বের হতে হচ্ছে। তৃষ্ণা মেটানোর জন্যই ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে শরবত খাচ্ছি।" শহরের রাজনন্দিনী দিঘির পাড়ে শরবত বিক্রেতা সালেহ আহম্মদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি লেবু আর তোকমার দুই ধরনের শরবত বিক্রি করছেন। তবে গত কয়েক দিন বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে। দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ গ্লাস শরবত বিক্রি করছেন তিনি।
ফেনী শহরের রিকশাচালক সুরুজ মিয়া বলেন, "সকাল থেকেই গরম ছিল। দুপুরের দিকে রোদের তাপ আরও বেড়ে যায়। রাস্তায় রিকশা চালাতে গিয়ে শরীর ঘেমে যাচ্ছে। গরমের কারণে আগের তুলনায় যাত্রীও কম পাওয়া যাচ্ছে।" মো. আবুল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী জানান, "গত সপ্তাহে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও সোমবার থেকে হঠাৎ গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। দুপুরের দিকে দোকানে বসেও অস্বস্তি লাগছে। বাইরে বের হলে রোদের তাপ আরও বেশি মনে হচ্ছে।"
জ্বরে আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ফাজিলপুরের বাসিন্দা আবদুল কাদের। তিনি বলেন, "দুই দিন আগে অতিরিক্ত জ্বরে আক্রান্ত মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরীক্ষায় নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়েছে। এখানে এত বেশি গরম, সঙ্গে রোগীর চাপে মনে হচ্ছে আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।"
ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, পরপর দুই দিন ফেনীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা, বাতাসের কম গতিবেগ এবং বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্য বেশি থাকার কারণে এই ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এ ছাড়া বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ঘাম সহজে শুকায় না, ফলে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে। তা ছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তন তো আছেই।
সার্বিক বিষয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দোলা বলেন, "গত দুই দিন ধরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমের কারণে ডায়রিয়া, জ্বর, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য গরমজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। শিশু, ডায়রিয়া, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে শয্যার কয়েক গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, মাস্ক ব্যবহার, অসুস্থ হলে দূরত্ব মেনে চলা, প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া এবং বাইরে বের হলে ছাতা বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন