প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের সাঙ্গু নদে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ডুবির কারণে একজন পর্যটক নিখোঁজ হয়ে গেছেন। এই ঘটনা ঘটে গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নদের বড় পাথর এলাকায়।
নিখোঁজ পর্যটকের নাম মো. জাওয়াদ উল ইসলাম, যিনি ময়মনসিংহ জেলার মাসকান্দার বাসিন্দা। তাকে উদ্ধার করার জন্য থানচি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর ১৩ পর্যটক নিয়ে একটি দল দু’টি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় তিন্দু মুখ এলাকা থেকে বড় পাথরের উদ্দেশ্যে বের হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা তীব্র স্রোতে পড়ে যায়। উজানের দিকে যাওয়ার সময় নদের খর স্রোতে একটি নৌকা ডুবে যায়, যার কারণে একজন পর্যটক নিখোঁজ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, ওই পর্যটকদল আলীকদম উপজেলা হয়ে এসেছিল। জেলা সদর থেকে তারা চিম্বুক বা ১২ মাইল সেনা ক্যাম্প, নীলগিরি সেনা ও বলিপাড়া বিজিবি চেক পোস্টে কড়া পাহারা এড়িয়ে মূলত আলীকদম উপজেলা সদর হয়ে থানচির বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন।
থানচি গাইড সভাপতি জওয়াই প্রু বলেন, ১৩ জনের একটি পর্যটক দল ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিন্দুতে প্রবেশ করেছিল। পরে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রাজা পাথর এলাকায় নৌকা ডুবির ফলে একজন পর্যটক নিখোঁজ হয়ে যান। অন্যান্যরা নিখোঁজ যুবককে উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বাসস’কে জানান, আলীকদম হয়ে তিন্দু ভ্রমণে যাওয়ার আগে প্রশাসনের কাছে নিজেদের পরিচয় নিবন্ধন করেননি ওই দলের পর্যটকরা। তারা ফাঁকি দিয়ে ২১ কিলোমিটার ধরে প্রবেশ করে তিন্দুতে বেড়াতে যান। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় প্রশাসনের ওপর এসে পড়ে। এই বিষয়টি আগামী মাসিক মিটিংয়ে উত্থাপন করা হবে, যাতে পর্যটকরা চুরি করে প্রবেশ করতে না পারেন সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে পর্যটক ভ্রমণে বর্ষাকাল পর্যন্ত কিছুদিন বন্ধ রাখা যায় কি-না, তা পর্যালোচনা করা হবে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।
নিখোঁজ পর্যটকের উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, জানান থানচি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. রহিদুর রহমান।
থানচি উপজেলা সদর থেকে তিন্দুমুখের দূরত্ব আনুমানিক ১২ কিলোমিটার। এক সময় পর্যটকরা শুধুমাত্র সরাসরি নৌপথে করে তিন্দু যেতেন। পরে থানচি-আলীকদম দিয়ে একটি সংযোগ সড়ক তৈরি হওয়ায় এখন অনেক পর্যটক নিবন্ধন না করেই তিন্দু, রেমাক্রি এবং নাফাকুম জলপ্রপাত ভ্রমণে যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন