প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনটি যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুনরায় চালু না হয়, তাহলে দেশটির রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এক ধাক্কায় প্রায় ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বাজারের তেল ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। রিপোর্টটি রয়টার্সের।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরব, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ, থেকে সরবরাহ আরও কমে গেলে এই সংকট আরও তীব্র হবে।
১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি ব্যবহার করে সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাত। তবে সাম্প্রতিক ক্ষতির কারণে পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে পড়ায় ইয়ানবু বন্দরে বর্তমানে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার মতো তেল অবশিষ্ট রয়েছে। শিল্পখাতের তথ্যমতে, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মিসরের আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরে সৌদির কিছু তেল মজুত থাকলেও পাইপলাইন সচল না হলে তা দ্রুতই ফুরিয়ে যাবে।
রয়টার্স জানাচ্ছে, পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের সময়সীমা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের মতে, মেরামতের কাজ সম্পন্ন হতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, এর আগেই আংশিকভাবে হলেও পাইপলাইনে তেল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, সামুদ্রিক রুট অবরুদ্ধ হওয়া ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে গত আগস্ট মাসে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর পূর্বে গত ফেব্রুয়ারিতে সৌদির দৈনিক উৎপাদন ১০৯ লাখ ব্যারেল থাকলেও আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬২ লাখ ব্যারেলে। সার্বিকভাবে বিশ্ববাজারে এ বছর প্রতিদিন প্রায় ৫৭ লাখ ব্যারেল বা ৬ শতাংশ তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন