প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২ জুলাই, ২০২৬ : শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে একটি ‘রেগুলেশন’ বা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত।
মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকরা শিক্ষকতার পেশায় থাকবেন, আর নির্বাচনে গেলে তারা রাজনীতির পেশায় চলে যাবেন। এ দুটি বিষয় একসাথে চললে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি উক্ত মন্তব্য করেন।
এছাড়া, এর আগে বাংলাদেশে ‘জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্টের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানটি গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, এডিবি, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
শিক্ষকদের নির্বাচনমুখী হওয়া প্রসঙ্গে নিজস্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৪ হাজারের বেশি চেয়ারম্যান পদ এবং ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক অংশ নেন। এতে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্বাচন কমিশনের এমন একটি ফ্রি রেগুলেশন বা নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত; যাতে শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে না যান। যদি যেতে হয়, তাহলে তারা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে যান। রাষ্ট্রের যে বিনিয়োগ ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, তা যেন দেশের সুন্দর জাতি গঠনে সঠিকভাবে কাজে লাগে।’
আজ শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এবং মনিটরিং সেল রয়েছে, ফলে এখন আর প্রত্যেক কেন্দ্রে গিয়ে পাহারা দিতে হচ্ছে না। শিক্ষকরা সজাগ, অভিভাবকরা সচেতন এবং পুলিশ বিভাগ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। শিক্ষার্থীরাও সতর্ক, তারা এখন আর কোনো ‘আনফেয়ার’ (অসদুপায়) অবলম্বন করবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।’
এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের একাংশের ঝরে পড়ার (ড্রপ আউট) হার বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে এসএসসি বা এইচএসসির পর মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া কিংবা ছেলেদের কাজে চলে যাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রবণতা ছিল। আমরা এই ড্রপ আউটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। আগামীতে ক্লাসরুমের শিক্ষা এবং শিক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে সিলেবাস সুন্দরভাবে সাজানো হবে।’
প্রাথমিকের সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের মামলা সম্পর্কে ড. মিলন বলেন, ‘বিষয়টি আদালতের আপিল বিভাগের নজরে এসেছে এবং তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কোর্টের আদেশটি এখনো আমাদের হাতে আসেনি। এ বিষয়ে আমরা আজ বিস্তারিত জানাব।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার সমন্বয়ে মোট ৯৮.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের গ্রান্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ইমানুয়েল আব্রিউ, ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, এডিবি’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি (অফিসার ইনচার্জ) আকিরা মাতসুনাগা এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনের হিউম্যান ক্যাপিটাল টিমের লিডার গোলাম কিবরিয়াসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন