প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে চলছে ধরপাকড়ের অভিযান। জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি গতকাল পুলিশের হাতে আটক হন। রাতে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় রাঠি দাবি করেন, তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল।
তিনি তার পোস্টের ক্যাপশনে লেখেন, "আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল।"
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শনিবার রাত ৩টার সময় রাঠিকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটির তার বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
ভিডিওবার্তায় রাঠি একটি পাসপোর্ট প্রদর্শন করেন, যা তিনি দাবি করেন তার ভারতীয় পাসপোর্ট। তিনি বলেন, তিনি একজন বিদেশি নাগরিক, যিনি বিক্ষোভে অংশ নিতে চেয়েছিলেন—এমন খবরের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, "আমি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং একজন সাধারণ নাগরিকের যে অধিকার রয়েছে, আমারও সেই একই অধিকার রয়েছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে, যখন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন, তখন তার মা দরজা খুলেছিলেন, কারণ বাইরে বেশ কয়েকজন লোক ঘোরাফেরা করছিল। তার দাবি, তারা পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না, বরং সাধারণ পোশাকে থাকা লোকজন ছিলেন। তিনি বলেন, প্রায় ২০ জন হঠাৎ করে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে।
তিনি বলেন, "আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই লোকেরা আক্ষরিক অর্থে আমাকে অপহরণ করে। আমি এখানে অপহরণ শব্দটি ব্যবহার করছি, কারণ এটি কোনো গ্রেপ্তার নয়।"
তিনি আরও বলেন, "যদি আমি বিক্ষোভে যেতাম, তাহলে আমাকে আটক করা হতো।" তার অভিযোগ, নেমপ্লেট ছাড়া কিছু ‘গুণ্ডাকে’ পাঠানো হয়েছিল তাকে ‘অপহরণ’ করার জন্য।
তিনি বলেন, "তারা আমাকে সোজাসুজি টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। মানে, একটু কল্পনা করে দেখুন, একজন অপরাধীকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা আমাকে শোবার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে নিয়ে যায়। এখানে আমি গুরুতরভাবে আহত হয়েছি। আমার সারা শরীরে এ ধরনের ক্ষত রয়েছে।"
রাঠি আরও অভিযোগ করেন যে তাকে তার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, "আপনারা কি এমন কোনো গণতান্ত্রিক দেশের কথা শুনেছেন, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিক কোনো আইন ভাঙেননি, যিনি শুধু সত্যের পক্ষে এবং দেশের কল্যাণের জন্য নিজের কণ্ঠস্বর তুলেছেন, যিনি একটি উন্নত নির্বাচন কমিশনের দাবি জানিয়েছেন, তাকে তার নিজের বাড়ির শোবার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, অপহরণ করা হয়, তার বাবা-মাকে মারধর করা হয় এবং তারপর এভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়?"
তিনি পরিস্থিতিটিকে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ‘দেশকে একনায়কতন্ত্রে পরিণত করার’ অভিযোগ তোলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন