প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বন্যার ক্ষতির ধকল, জমিতে জমে থাকা পানি, নষ্ট হয়ে যাওয়া বীজতলা— এসব উদ্বেগকে পেছনে ফেলে চট্টগ্রামে কৃষকরা আমন আবাদের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল জেলার কৃষিজমিতে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ আমনের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। ভাদ্রের হালকা বৃষ্টিতে রোপা চারা প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। মাঠজুড়ে সবুজের বিস্তার ঘটেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র জানাচ্ছে, চট্টগ্রামে এবারের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০০ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে আমন আবাদের কাজ।
চট্টগ্রামের বৃহত্তম কৃষিক্ষেত্র রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিলে ইতোমধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। সেখানে এখন ধীরে ধীরে আমনের গুচ্ছ পরিপক্ব হয়ে উঠছে, পুরো বিলজুড়ে বাতাসে দোল খেতে শুরু করেছে সবুজ পাতা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া এবং লোহাগাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ সবুজে ছেয়ে গেছে। গত কয়েকদিন আগে সরেজমিনে পটিয়ায় দেখা গেছে, সেখানকার কৃষকরা এখন ধান রোপণের পর জমিতে প্রথম দফার সার প্রয়োগ করছেন, কোথাও কোথাও আগাছা পরিষ্কারও চলছে।
পটিয়ার হাইলধর এলাকার কৃষক সৈয়দ নূর মন্তব্য করেন, ‘আমি প্রতি বছর ৫ কানি (দুই একর) জমিতে ধান চাষ করি, এবারও তা-ই করেছি। এবারের বর্ষা খুব ভালো যাচ্ছে, ফুল বর্ষা (কোনো বছর অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি না হলে চাষের সুবিধা বুঝাতে স্থানীয় ভাষায় এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়) পানির সংকট হচ্ছে না, জমি একবার শুকাতে না শুকাতে আবারও বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকায়, আমন রোপা হাইল ধরেছে (পরিপক্ব হওয়া)। এবারে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, অনুকূল আবহাওয়া, সময় মতো চারা রোপণ, প্রয়োজনীয় সার ও বীজের সরবরাহ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তার কারণে এবারের আমন আবাদ দ্রুত এগিয়েছে। বন্যার পরও চারা নিয়ে কৃষকদের বড় ধরনের সংকটে পড়তে হয়নি। সরকারি পক্ষ থেকে দ্রুত পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সময় মতো মাঠে ফিরতে পেরেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারেও আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। জেলায় মোট ১৮ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাত মিলিয়ে ১৮ হাজার ৪২২ হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে আমন চারা রোপণ করা হয়েছে, আবাদের অগ্রগতি ৯৯ শতাংশ।
নোয়াখালীতে আমন আবাদের চিত্র আরও এগিয়ে রয়েছে। জেলার এবারের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফেনীতে এবারের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৬৬ হাজার ৮৯৪ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৬৬ হাজার ৮৩৭ হেক্টর জমিতে আবাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাঁচ জেলার মধ্যে লক্ষ্মীপুরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আবাদের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। জেলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অগ্রগতি হয়েছে ১১৭ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, আমনের ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে অনেক জমিতে পরিকল্পনার বাইরে গিয়েও আমন আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আমন মৌসুমে চারা সংকট তৈরি হলে আবাদের কাজ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এবারে সরকারি উদ্যোগে চারা উৎপাদন ও বিতরণ এবং স্থানীয়ভাবে কৃষকদের প্রস্তুত করা বীজতলার কারণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকেরা নিজেদের বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় নার্সারি ও কৃষি বিভাগের সহায়তাও পেয়েছেন। ফলে জমি প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ আপ্রু মারমা জানান, এবারের আমন মৌসুমের শুরুতে বন্যার কারণে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা দ্রুত জমি প্রস্তুত করেছেন। প্রয়োজনীয় সার-বীজ ও চারা সরবরাহ নিশ্চিত থাকায় রোপণ কাজে বড় ধরনের ছন্দপতন হয়নি। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত আমনের জন্য সহায়ক থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দ্রুত সম্ভব হয়েছে।
সাতকানিয়ার একজন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, এবারে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে কৃষকদের মধ্যে আমন আবাদ নিয়ে আগ্রহ কমেনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে, অনেক জায়গায় চারা ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে চারা সংকট তৈরি হয়নি। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই আবাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন