প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীতে গ্যাসের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে চাহিদার থেকে কম থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এই কারণে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মালিবাগ, বিশ্বরোড, মতিঝিল, মানিকনগর, খিলগাঁও, বনশ্রী, মুগদা এবং সবুজবাগের সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেছে।
বিশ্বরোড অঞ্চলের শান্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন মিয়া জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সংকট বেড়ে গেছে।
কখনো কখনো তিনি পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, সকালে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে গ্যাস পেয়েছি, তা দিয়ে মাত্র দুটি ট্রিপ দেয়ার মতো সক্ষমতা হয়েছে। এখন আবার লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।
এভাবে চলতে থাকলে গাড়ির জমা, কিস্তি এবং সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
চালকরা অভিযোগ করেছেন, গ্যাস সংকটে তারা বিপাকে পড়েছেন।
যেহেতু রাজধানীর অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ নেই, তাই গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে ধীরগতি অব্যাহত রয়েছে।
কিছু স্টেশনে আবার সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে প্রতীক্ষা করেও অনেকেই গ্যাস পাচ্ছেন না।
গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।
গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করার ফলে চালকদের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
কিন্তু গাড়ির জমা, কিস্তি এবং সংসারের ব্যয় আগের মতোই বহন করতে হচ্ছে।
মানিকনগরের বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক কামাল হোসেন জানালেন, দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের লাইনে কেটে যাচ্ছে এবং আয় কমে যাওয়ায় পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর মেরুল বাড্ডার জামান সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি এমন যে, চালকরা গ্যাস নিতে আসলেও কিছু পাচ্ছেন না।
সিএনজির ভিড়ের কারণে যানজট সৃষ্টির বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ স্টেশনের সামনে সিএনজি দাঁড়াতে দিচ্ছেন না।
মালিবাগ হাজীপাড়া সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক আবদুল কাদের জানান, তিনি ভোরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু দুপুর হয়ে গেলেও গ্যাস পাননি।
তিনি বলেন, সারা দিন লাইনে থাকলে আয় করবো কখন? সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
কয়েকজন সিএনজি চালক জানিয়েছেন, তাদের সিএনজির জমা ১০০/১২০০ টাকা রয়েছে।
তারা গাড়ি না চালালে কীভাবে দেবেন, গ্যাস সংকটের কারণে তারা গাড়ি চালাতে পারছেন না।
এভাবে চলতে থাকলে মালিককে জমা দেওয়া তো দুরের কথা, নিজেদের জন্য খাবার জোগাড় করা সম্ভব হবে কি না।
এই অবস্থায় তারা অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন।
মুগদা বিশ্বরোড এলাকার শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় দুটি কম প্রেশারের মধ্যে মাত্র একটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।
ফলে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।
যদি দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হয়, তাহলে স্টেশন পরিচালনা ও কর্মীদের টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন