প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টোকিও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ায় বুধবার জাপানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের পথে এগিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগ জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং।
এ খবরটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে জাপান ধীরে ধীরে সরে আসার চেষ্টায় রয়েছে। দেশটি সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে, প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত চুক্তি সম্প্রসারণ করছে এবং দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ব্যবস্থা মোতায়েন করে চলেছে।
মঙ্গলবার জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘জরুরি অবস্থা ও সংকটবোধ’ নিয়ে দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নতুন নিরাপত্তা মূল্যায়নে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেছেন, ‘জাপানের এই রূপান্তরের ফলে পিয়ংইয়ংয়ের নেতৃত্ব অতিরিক্ত সামরিক বিকল্প নিতে বাধ্য হবে।’
কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি(কেসিএনএ) প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্র জাপান দ্রুতই একটি যুদ্ধরাষ্ট্রে রূপান্তরিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, সম্প্রতি জাপানের টমাহক দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ এবং মে মাসে ফিলিপাইনসের সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের অংশগ্রহণ-এসবই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সমর্থনে ‘বিপজ্জনক সামরিক তৎপরতার’ প্রমাণ।
কিম ইয়ো জং আরও বলেন, জাপান শীঘ্রই আগাম আক্রমণের সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জাপানের সামরিক সক্ষমতার এই বিকাশ যদি গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়, তাহলে আমরা চুপচাপ বসে থাকবো না।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৫ সালে আত্মসমর্পণের পূর্বে জাপান সম্পূর্ণ কোরীয় উপদ্বীপ দখল করে রেখেছিল। এরপর থেকে ৩৮তম অক্ষরেখা বরাবর কোরিয়া বিভক্ত হয়ে দুই পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত হয়Ñউত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া।
জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের সহিংস অতীতের প্রভাব উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে বিদ্যমান।
কিম ইয়ো জংয়ের বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘সামরিকবাদের উত্তরসূরিরা, যারা ধূর্ততা ও আগ্রাসনের উত্তরাধিকার বহন করছে, যদি তাদের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র তুলে দেয়, তবে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মসমর্পণের পর থেকে জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
২০২৫ সালে জাপান তার সামরিক ব্যয় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। এ ব্যয় জাপানের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৪ শতাংশ। এটি ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনও সম্প্রতি জাপানের সামরিক সম্প্রসারণকে ‘নতুন সামরিকবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নভেম্বরে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন, চীন যদি তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তবে জাপানের সামরিক বাহিনীর প্রতিক্রিয়া জানানো দরকার হতে পারে। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটেছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে সুরাহা করে চলেছে।
২০১৯ সালে নেতা কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং বারবার নিজেকে একটি ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন