প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিকিকরণ নিয়ে তিনটি বড় খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়াও অনুমোদন হয়েছে।
চলতি মেয়াদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে এর মধ্যে সংগতি অনুযায়ী ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরকে গতিশীল করার জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানা গেছে।
দেশের বিনিয়োগকারীদের সেবা পেতে আরও সহজ ও দ্রুত করতে সরকারের তরফ থেকে বড় ধরনের সংস্কার হাজির হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে তৈরি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি আজ চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভা।
নতুন এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) কার্যক্রমকে একক কাঠামোর মধ্যে উপস্থিত করা। প্রস্তাবিত নতুন কর্তৃপক্ষ হবে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা।
এর ফলে, বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’-এর মাধ্যমে লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিবন্ধন সহ যাবতীয় সরকারি সেবা পাবেন। এতে বিভিন্ন সংস্থার কাজের দ্বৈততা কমবে। সরকারের অব্যবহৃত জমি, স্থাপনা বা শেয়ার উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে এই আইনে। ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সহজ পদ্ধতিতে অনুমোদন দিতে পারবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের তৈরি ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ খসড়াটি অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ৩১টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নির্ধারিত করতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্তত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বেসরকারি বিনিয়োগ টানতে এই কৌশলপত্রে রুফটপ সোলার, স্মার্ট গ্রিড, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ শুল্ক ছাড় ও কর অবকাশের (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রায় একই সঙ্গে একটি বিশেষ ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফান্ড’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এই খাতের প্রযুক্তিগত জনবল তৈরিতে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে এবং পুরো কার্যক্রম তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ‘জাতীয় পলিসি কাউন্সিল’ ও রিয়াল-টাইম অনলাইন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
নতুন নীতি আদেশে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে অর্থ পরিশোধ পদ্ধতিতে। এখন থেকে প্রচলিত এলসি বা লেটার অব ক্রেডিটের পাশাপাশি ‘ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি’ (সেলস কনট্রাক্ট) এবং ওপেন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মূল্যসীমা ছাড়াই পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের ব্যবসায়ীরা।
রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন কাঁচামাল ‘ফ্রি অব কস্ট’ (এফওসি) বা বিনা মূল্যে আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও পুনঃরফতানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
নতুন নীতি আদেশে প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসীরা যাতে দেশে এসে সহজে বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপন করতে পারেন, সেজন্য ক্যাপিটাল মেশিনারি ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর প্রমাণিত কয়েকটি কীটনাশক আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। তবে দেশের প্রাণিসম্পদের প্রজনন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বার্থে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট প্যাথোজেনমুক্ত (এসপিএফ) এবং বিএসই-মুক্ত গরু, মহিষ ও ছাগলের সিমেন আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন