প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাড়ির পেছনের বাগানে সাধারণ খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করার সময় একটি বিরল ও অমূল্য রৌপ্যভান্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। ডেনমার্কের রেবিল্ড এলাকায় মাটি সরানোর প্রক্রিয়ায় প্রায় এক হাজার বছর আগে ভাইকিং যুগের সাড়ে ১৮ কেজি ওজনের বিভিন্ন রুপার সামগ্রী বেরিয়ে আসে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, দেশটির ইতিহাসে এত বিপুল পরিমাণ ভাইকিং রৌপ্যভান্ডার পাওয়ার ঘটনা এটি প্রথমবারের মতো ঘটেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওই বাড়ির মালিক নিজ বাগানে টেরেস নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন। হঠাৎ করে মাটির নিচে রূপালি বস্তু দেখতে পেয়ে তিনি স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের খবর দেন। এরপর প্রত্নতাত্ত্বিক দলটি এসে মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, এগুলো সাধারণ ধাতব অংশ নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে মাটির নিচে জমে থাকা ভাইকিং যুগের রৌপ্য নিদর্শন।
ঐতিহাসিক এই আবিষ্কারে মোট ৭০০টিরও বেশি রুপার তৈরি জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিখুঁতভাবে তৈরি রুপার দণ্ড, বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী অলংকার, প্রাচীন মুদ্রা এবং ভাইকিং পুরাণে বর্ণিত ‘থরের হাতুড়ি’র আদলে তৈরি একটি ক্ষুদ্র রূপালি প্রতিরূপ। দীর্ঘ এক হাজার বছর মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ নিদর্শনের মান বেশ চমৎকার অবস্থায় রয়েছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা জানান, ভাইকিং সমাজে রূপার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তারা যুদ্ধ জয়, বাণিজ্য বিস্তার ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান নিয়ামক হিসেবে রুপা ব্যবহার করতেন। এক স্থানে এত বিপুল পরিমাণ সামগ্রী জমা হওয়ার পেছনে সে সময়ের বিশেষ সামাজিক পরিস্থিতি, বাণিজ্য সংঘাত কিংবা নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল কি না, তা নিয়ে বর্তমানে বিশদ গবেষণা চলছে।
বর্তমানে বিশেষজ্ঞ দলটি উদ্ধার করা ধাতব সামগ্রীগুলোর উৎস এবং আনুমানিক বয়স নির্ধারণের কাজ করছেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই উদ্ভাবন ভাইকিং যুগের মানুষের জীবনযাত্রা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিস্তৃতি সম্পর্কে নতুন ঐতিহাসিক তথ্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন