প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
টানা বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্প্রতিক বন্যার কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ক্ষেতে ফসলের ক্ষতি ও সরবরাহ কমে যাওয়ার জন্য সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়ে গেছে। একই সময় ঊর্ধ্বমুখী ব্রয়লার মুরগি ও মাছের বাজারও প্রতিফলিত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে সপ্তাহের বাজার করতে এসে বাড়তি খরচ ভোগ করতে হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
একটানা অতিবৃষ্টি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় বিভিন্ন জেলার সবজি ক্ষেতগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু এলাকা থেকে নিয়মিত সবজি রাজধানীতে আসতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে। বর্তমান বেশিরভাগ সবজি ১০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে, কিছুর দাম সেই সীমাও ছাড়িয়ে গেছে।
বাজারে ঘুরে দেখা যায়, এখন কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ২৬০ টাকারও বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে। শসার দাম ১২০ টাকা, বরবটির দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটলের দাম ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, বন্যার কারণে অনেকে এলাকার সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার যেসব এলাকা থেকে সবজি আসছে, সেখান থেকেও সরবরাহ কম। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।
আরেক বিক্রেতা মো. শাহাবুদ্দিন বলেছেন, বৃষ্টির কারণে পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। ট্রাকগুলি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা খুব কম।
সবজির বিদ্যমান বাড়তি দামে হতাশ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা মো. তাহের মন্তব্য করেন, প্রতি সপ্তাহেই নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। আগে ১ হাজার টাকায় কয়েক দিনের বাজার হয়ে যেত, এখন শুধুমাত্র সবজি কিনতেই সেই টাকা শেষ হয়ে যায়।
গৃহিণী সাবিনা আক্তার বলেন, কাঁচামরিচ, শসা, বেগুন-সবকিছুর দাম অনেক বেশি। সংসারের খরচ বারবার পাল্টাতে হচ্ছে। প্রয়োজনের প্রত্যেকটি জিনিস আর কেনা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে মুরগির বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়িয়ে ব্রয়লার মুরগি এখন ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। মুরগি বিক্রেতা রুবেল হোসেন জানিয়েছেন, খামার থেকেই মুরগির দাম বেশি। সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়ে গেছে।
মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। লাল ডিম প্রতি ডজন ১৩৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, ডিমের সরবরাহ এখন মোটামুটি স্বাভাবিক হয়েছে। তাই গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি করছি।
তবে মাছের বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ আনা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এজন্য কয়েকটি প্রজাতির মাছের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন