প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় মা হারানোর দুঃখ সহ্য করতে হয়েছে আরিফিন ইসলাম আরফাকে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা তাজুল ইসলাম মারা যান। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে মা-বাবার অভাব অনুভব করতে হচ্ছে ৯ বছরের এই শিশুটিকে। রাজধানী ঢাকার পশ্চিম রামপুরায় হৃদয়বিদারক এই ঘটনার জন্ম হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম ও মারুফা আক্তার উভয়েই একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রেমের সম্পর্ক থেকে ২০১৪ সালে তারা পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আরফার জন্মের পরপরই মারুফা আক্তারের শারীরিক মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। নড়াইল থেকে যশোরে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকেই দাদি সখিনা বেগম ও বড় চাচা শফিকুল ইসলামের কাছে রামপুরার ভাড়া বাসায় বড় হয়ে উঠছিল আরফা। মা হারানো ছোট্ট মেয়েটিকে পরম যত্নে আগলে রেখেছিলেন তার বাবা তাজুল ইসলাম। মুদিদোকান পরিচালনার পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলারের দায়িত্ব পালন করতেন তাজুল। তিনি মেয়ের সব আবদার পূরণ করতেন এবং মায়ের অভাব বুঝতে দিতেন না।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এর আগে যক্ষ্মা, করোনা ও চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ জয় করলেও শেষ পর্যন্ত সর্বনাশা ডেঙ্গু তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। স্বামী ও সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্থিক সংকট এবং পাওনাদারদের দেনা শোধের চাপ। তাজুল ইসলামের কোনো সঞ্চয় না থাকায় এবং ঋণের বোঝা কাঁধে চাপা পড়ায় ছোট্ট আরফার ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তার বৃদ্ধা দাদি ও চাচারা।
বর্তমানে রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে আরফা। মুঠোফোনে মা-বাবার পুরোনো ছবি দেখা এবং প্রিয় বিড়াল ‘ভুতুম’কে নিয়ে দিন কাটানো এই শিশুর ছোট্ট মন এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি যে তার বাবা আর কোনো দিন ফিরবেন না। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউ থেকেও সুস্থ হয়ে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে দিন কাটাচ্ছে সে। পরিবারের এই চরম দুর্দিনে সমাজের বিত্তবান ও সরকারিভাবে কেউ পাশে দাঁড়ালে ছোট্ট আরফার ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও সুরক্ষা পেতে পারে, এমন আশা প্রকাশ করেছেন তার শোকার্ত স্বজনরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন