প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন পেশায় যুক্ত যে কেউই, তিনি যতই প্রভাবশালী হোন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আইন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, আইন পেশা শুধুমাত্র জীবিকা নির্বাহের একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আইনজীবী শুধুমাত্র মক্কেলের প্রতিনিধি নন, বরং তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন এবং আইনের শাসনের রক্ষক হিসেবে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, একজন আইনজীবীর সাফল্য কেবল মামলায় জয়লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার সততা, পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং নৈতিক অবস্থানই প্রকৃত মর্যাদার সূচক।
আইনজীবীদের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সত্য ও ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। তবে আদালতকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা তথ্য প্রদান কিংবা ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করে মক্কেলের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে না। পেশাগত সাফল্যের জন্য কোনো অনৈতিক পন্থা গ্রহণযোগ্য নয়।
অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত আইনজীবীদের সতর্ক করে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কেউ যদি আইন পেশাকে শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করে নীতি-নৈতিকতা উপেক্ষা করে দ্রুত অর্থ-সম্পদ ও প্রভাব অর্জন করতে চান, তবে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কঠোর অবস্থানে থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তিনি পেশায় যতই শক্তিশালী হোন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে।
সুপ্রিম কোর্টে কিছু আইনজীবীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দায়িত্ব পালন ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
‘এজিও-ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকসসহ অন্যান্য অতিথিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন