প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে নুর নবী হোসেন (৩০) নামে একজন দিনমজুর নিহত হন। তিনি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ অভিযুক্ত মো. শাহ পরান যিনি ফয়সাল ও সাদ্দাম হোসেন নামেও পরিচিত, তাকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ধারাল চাকুটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত নুর নবী হোসেনের পিতা আব্দুর রব, এবং মাতা আঞ্জু বেগম। নুর নবী হোসেনের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মনসাদ বাড়ী এলাকায়। নদীভাঙনের কারণে তার পরিবার ঢাকা শহরে বসবাস শুরু করে। পরে, তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতে থাকেন। পরে দাগনভূঞা উপজেলার মৃত বেলাল হোসেনের কন্যা বিবি ফাতেমার সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে তার বিয়ে হয়। স্বামী-স্ত্রী দুজনে বোতল কুড়িয়ে বিক্রি এবং বিভিন্ন ধরনের দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাতের বেলা মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচেই তারা ঘুমাতেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার (২৬ জুলাই) ভোরে আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নুর নবী ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময় একই স্থানে বসবাসকারী শাহ পরান, যিনি ফয়সাল ও সাদ্দাম হোসেন নামেও পরিচিত, বিবি ফাতেমার শরীরে বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনাটি শুনে নুর নবীর ঘুম ভেঙে গেলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয় এবং পরে মারামারি শুরু করে।
নুর নবী যখন অভিযুক্তকে ঘুষি মারলেন, তখন শাহ পরান তার সাথে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে নুর নবীর পেটের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করেন। এর ফলে নুর নবী গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের সহায়তায়, তাঁকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনী পৌরসভার হাজারী রোড এলাকায় নুর নবীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ২৬ জুলাই সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি সোমবার (২৭ জুলাই) ফেনী মডেল থানার মামলা নম্বর-৫৫ হিসেবে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর, পুলিশ সুপার ফেনীর সার্বিক নির্দেশনায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) এবং দাগনভূঞা থানা পুলিশের সহায়তায় ফেনী মডেল থানার একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। পরে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাগনভূঞা থানার এলাকা থেকে পলাতক শাহ পরান, যিনি ফয়সাল ও সাদ্দাম হোসেন নামেও পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারাল চাকু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন