প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
লালমনিরহাট, ২৫ জুলাই ২০২৬ : নতুন পাটের দাম বৃদ্ধি পেলেও অতিবৃষ্টির ফলে ফলন কম হওয়ায় বছরের খোরাকি জোগাড়ের চিন্তায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিত অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটের বাজারেও মৌসুমের নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় বাজারদর ভালো থাকলেও অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বিঘ্নিত হওয়ায় ফলন কমেছে, যা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষকদের দাবি, এ বছর অধিকাংশ পাটগাছের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৫ ফুট কমে গেছে। ফলে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত আঁশ উৎপাদন কমেছে। সাধারণভাবে পাটগাছের উচ্চতা ৭ থেকে ১৩ ফুট থাকলেও এবার অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত উচ্চতা অর্জিত হয়নি।
জেলার সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটে নতুন পাটের কেনাবেচা অল্প পরিমাণে শুরু হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও জমিতে পানি জমে থাকার কারণে পাটগাছের উচ্চতা মাত্র ৩ থেকে ৫ ফুট হয়েছে এবং আবার কোথাও ৬ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত বেড়েছে। কৃষকরা এ সময়ে পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া, শুকানো এবং বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
পাটের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জেলা সদরের পাট ব্যবসায়ী আক্কাস আলী বাসসকে জানিয়েছেন, গত বছর মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় কিনলেও এবছর মৌসুমের প্রথমে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবারের পাটের বাজারদর কিছুটা বেশি রয়েছে।
আদিতমারী উপজেলার কৃষক আমির আলী বলেন, তিনি প্রতি মণ পাট ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষক সন্তোষ রায় ঐ অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান বাজারদর সন্তোষজনক, তবে এই দাম কতদিন থাকবে, তাতে তিনি অনিশ্চিত। কারণ, এখনও আরও পাট জাগ দেওয়া বাকি রয়েছে।
পাটের উৎপাদন ও আয়-ব্যয় নিয়ে বাসসের সঙ্গে আলাপকালে সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক ও কীটনাশক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান (৪২) জানান, এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে পাট চাষে খরচ প্রায় ১৬ হাজার টাকা হয়। তবে অতিবৃষ্টির কারণে এবছর পাটগাছের স্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধি বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ফলন কমেছে। এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ৬ মণ পাট উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা হিসাব করলে ৬ মণ পাট বিক্রি করে ২৪ হাজার টাকা পাওয়া যায়। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে তিন মাসের পরিশ্রমে এক বিঘা জমিতে লাভ থাকে মাত্র ৮ হাজার টাকা।
তিনি আরও বলেন, তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করে যে লাভ হয়, তা দিয়ে ছয় সদস্যের একটি পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা খুবই কঠিন। তাই কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
হাতীবান্ধা উপজেলার কৃষক কাশেম মিয়া বলেছেন, প্রতি মণ পাট উৎপাদনে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়। এবং প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ মণ পাট উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। দাম কিছুটা বাড়লেও লাভ খুব বেশি নয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৭৩০ হেক্টর বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৪৯ মেট্রিক টন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, বীজ বপন ও চারা বৃদ্ধির সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পাটগাছের স্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধি বিঘ্নিত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন জানিয়েছেন, নতুন পাটের বাজারদর ভালো রয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় উৎপাদন কমলেও অনেক স্থানে সন্তোষজনক ফলনের আশা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন