প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) জুলাইয়ের গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠন একাধিকবার দাবি জানানোর পরেও প্রশাসন থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করেন, এমন একটি স্মৃতিস্তম্ভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কে জানাবে এবং শহিদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রতীক হয়ে কাজ করবে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন 'পাটাতন' তাদের উদ্যোগে একটি জুলাই স্মৃতির মিনারের নকশা তৈরি করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছিল এবং মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়েছিল। তবে এর বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন এখনও কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
পাটাতনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সায়েম মুহাইমিন এ ব্যাপারে বলেন, 'আমরা জুলাই স্মৃতির মিনার নিয়ে উপাচার্য বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিলাম।' তিনি জানান, আবেদনটি উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের দপ্তরে জমা দেওয়ার পর প্রকৌশল অধিদপ্তরে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরে প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রস্তাবিত নকশার ভিত্তিতে ইস্টিমেটেড বাজেটও প্রস্তুত করেছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শহিদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রকল্পটির চূড়ান্ত বাজেট প্রস্তুতের কাজ চলছে।'
এছাড়া ২০২৫ সালের ১১ জুলাই, তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই মিনার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকারি উদ্যোগে একটি ‘প্রতিরোধ মিনার’ নির্মাণের কথা জানান।
তবে, ঘোষণার এক বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কিংবা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওই স্থানে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের লক্ষণ দেখা যায়নি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পর্কে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে না পড়ায় শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
এ বিষয়ে সাবেক সমন্বয়ক ও কুবি ছাত্রশক্তির সংগঠক নাঈম ভূঈঁয়া বলেন, 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে আমরা গত বছর থেকে কাজ করছি। আমরা কয়েকটি ডিজাইন জমা দিয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।' তিনি আরও জানান, 'সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যখন আমাদের ক্যাম্পাসে আসেন তখন তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে কথা বলেছেন। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়ন হয়নি।'
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান রায়হান এ প্রসঙ্গে বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য।' তিনি জানান, 'তারা জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, এমনকি আমাদের একজন ভাই শহীদ হয়েছেন।' তাই, তার মতে, জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া অপরিহার্য। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'অতীতে এত সময় চলে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।' অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তার অনুরোধ, 'দ্রুত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেলেই আমরা এর নির্মাণকাজ শুরু করব।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন