প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মোটরবাইক থেকে প্রত্যাশিত মাইলেজ বা পারফরম্যান্স না পাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক বাইক চালকের জন্য পরিচিত।
বাইকের জ্বালানি সাশ্রয় এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। শক্তি কমানো ছাড়া বাইককে আরও জ্বালানি সাশ্রয়ী করতে চাইলে কিছু বুদ্ধিদীপ্ত চালানোর অভ্যাস, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ছোট কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। নতুন বাইক হোক কিংবা পুরনো, এই টিপসগুলো যেকোনো বাইকের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
চালানোর ধরনে আনুন পরিবর্তন
জ্বালানি সাশ্রয়ের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো বাইককে স্বাভাবিক গতিতে চালানো। হঠাৎ গতি বাড়ানো এবং হঠাৎ ব্রেক করা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ দ্রুত গতি বাড়ালে জ্বালানির খরচ বেড়ে যায়, আর হঠাৎ ব্রেক করলে যন্ত্রাংশের অপ্রয়োজনীয় ক্ষয় হয়। বরং ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি বুঝে আগেভাগেই গতি কমানো উচিত।
একই গতিতে বাইক চালানোর চেষ্টা করুন। বারবার গিয়ার পরিবর্তনের চেয়ে স্থির গতিতে চালালে জ্বালানি খরচ কমে। এতে ইঞ্জিনের ওপর চাপও কমে যায় এবং জ্বালানি দহন আরও কার্যকর হয়।
যদি সম্ভব হয়, উঁচু গিয়ার ব্যবহার করুন। সঠিক সময়ে উঁচু গিয়ারে যাওয়া ইঞ্জিনের চাপ কমিয়ে মাইলেজ বাড়ায়। দীর্ঘ সময় নিচু গিয়ারে চালালে সেরা বাইকেও জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে। তাই ইঞ্জিন যখনই সুযোগ দেয়, তখনই গিয়ার পরিবর্তন করুন।
ঢালু রাস্তায় বা থামার আগে থ্রোটল ছেড়ে দিয়ে বাইককে নিজের গতিতে চলতে দিন। অযথা গতি বাড়ানো বা ব্রেক করার প্রয়োজন নেই।
বাইকের নিয়মিত যত্ন নিন
বাইকের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বাইক হোক বা পুরনো, সঠিক যত্নে সেরা পারফরম্যান্স পাওয়া সম্ভব।
নির্দিষ্ট সময় পরপর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা উচিত। ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখে এবং মসৃণভাবে চলতে সাহায্য করে। নিয়মিত এটি পরিবর্তন করলে ভালো পারফরম্যান্স এবং মাইলেজ পাওয়া যায়।
এয়ার ফিল্টার পরীক্ষা করা জরুরি। ময়লা জমা এয়ার ফিল্টার বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে কার্যকারিতা কমে যায়। তাই নিয়মিত এটি পরিষ্কার বা পরিবর্তন করা উচিত।
স্পার্ক প্লাগও পরীক্ষা করা আবশ্যক। পুরনো স্পার্ক প্লাগ দহন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে, যা মাইলেজ এবং শক্তি দুটোতেই প্রভাব ফেলে। এটি ভালো অবস্থায় আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
কম বাতাসের টায়ার রাস্তায় বাড়তি বাধা তৈরি করে, ফলে ইঞ্জিনকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং জ্বালানি সাশ্রয় কমে যায়। তাই নিয়মিত টায়ারের চাপ পরীক্ষা করুন এবং প্রস্তাবিত মাত্রায় রাখুন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অপ্রয়োজনীয় ওজন কমান
বাইকে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করলে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পায়। অপ্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক জিনিস সরিয়ে ফেলুন এবং বাড়তি বোঝা বহন থেকে বিরত থাকুন। নতুন বাইক কেনার পরিকল্পনা থাকলে হালকা কাঠামোর মডেল বেছে নেওয়া উচিত।
ভালো মানের জ্বালানি ও লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা উচিত। জ্বালানি এবং ইঞ্জিন অয়েলের মান সরাসরি বাইকের কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলে। ভালো মানের জ্বালানি এবং নির্মাতার প্রস্তাবিত লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করলে দহন প্রক্রিয়া ভালো হয় এবং ইঞ্জিনও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ট্রাফিকে ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন
থেমে থেমে চলা ট্রাফিক জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় প্রভাব ফেলে। জ্বালানি অপচয় কমাতে কয়েক সেকেন্ডের বেশি অপেক্ষা করতে হলে সিগন্যালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন। কম ট্রাফিক এবং কম সিগন্যালের রাস্তা বেছে নিন।
নিয়মিত সার্ভিসিং করান
নিয়মিত সার্ভিসিং করা বাইক ভালো পারফরম্যান্স দেয় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী হয়। নির্মাতার নির্ধারিত সার্ভিস সময়সূচি মেনে চলুন এবং ছোট কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা বড় হওয়ার আগেই সমাধান করুন।
বাইকের মাইলেজ এবং পারফরম্যান্স বাড়ানো শুধুমাত্র জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয় নয়, এটি সেরা রাইডিং অভিজ্ঞতা পাওয়ারও একটি উপায়। চালানোর অভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বছরের পর বছর বাইক সচল রাখা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন