প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাস্তাঘাট, গণপরিবহন কিংবা জনসমাগমস্থলে যৌন হয়রানি আজকাল অনেকের জন্য প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকেই দ্রুত হেঁটে চলে যান, চোখের যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন অথবা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু পদক্ষেপ নিলে শুধু নিজেকে নয়, অন্যান্যদেরকেও নিরাপদ রাখতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসমক্ষে যৌন হয়রানির ঘটনা সমাজে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মেনে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে সচেতনতা, প্রতিবাদ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।
যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে নেয়া যেতে পারে যেসব পদক্ষেপ:
প্রয়োজনে প্রতিবাদ করুন।
যদি পরিস্থিতিটি নিরাপদ মনে হয়, তাহলে শান্ত ও দৃঢ়কণ্ঠে হয়রানিকারীকে তার আচরণ বন্ধ করতে বলুন। অশালীন ভাষা ব্যবহার না করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন যে, এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
দর্শক হয়ে থাকবেন না।
কাউকে যদি হয়রানির শিকার হতে দেখেন, তাহলে নিরাপদ উপায়ে পাশে দাঁড়ান। সরাসরি বাধা দিতে না পারলে অন্যভাবে পরিস্থিতি পাল্টানোর চেষ্টা করুন অথবা ভুক্তভোগীকে সহায়তা করুন।
নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।
বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি, পরিবার অথবা পরিচিতদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন। এতে মানসিক চাপের পাশাপাশি অন্যরাও সচেতন হতে পারেন।
অভিযোগ করুন।
যদি ঘটনাটি আইনগত অপরাধের আওতাভুক্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানান। এতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
সচেতনতা তৈরি করুন।
নিজের এলাকায় অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানিবিরোধী সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে।
নিরাপদ পরিবেশের দাবি তুলুন।
যেসব স্থানে নিয়মিত হয়রানির ঘটনা ঘটে, সেখানে পর্যাপ্ত আলো, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানাতে হবে।
সহায়তার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন।
স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল অথবা কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিরাপদ জনপরিসর গড়ে তুলতে কাজ করা যেতে পারে। সম্মিলিত উদ্যোগগুলো হয়রানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, যৌন হয়রানির শিকার হলে নীরব থাকা বাধ্যতামূলক নয়, আবার প্রতিবাদ করাও সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, যৌন হয়রানির দায় কখনোই ভুক্তভোগীর নয়; দায় সম্পূর্ণরূপে হয়রানিকারীর।
সূত্র: এভরি ডে ফেমিনিজম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন