প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরাপদ সুপেয় পানি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বার্তা নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের উদ্দেশ্যে পায়ে হাঁটার কাজ করছেন পরিবেশকর্মী ও হাইকার মাসফিকুল হাসান টনি (২৯)। ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ নামের এই অভিযানে ৩০১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের শিশুবাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান তিনি।
বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর টনি শিশুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। এরপর দুপুর ১২টার দিকে চরমোন্তাজ থেকে চরবাংলার দিকে যাত্রা শুরু করেন। তার এই দিনের গন্তব্য ছিল ভোলার চরফ্যাশন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু হয় টনির এই পদযাত্রা। প্রায় ৭৫০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ অভিযানের শেষ গন্তব্য টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ। উপকূলের প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষের জীবন-জীবিকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
টনি মন্তব্য করেন, "আমি এই অভিযান শুধু অ্যাডভেঞ্চারের জন্য করছি না। জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুপেয় পানির দাবিকে সামনে রেখে উপকূলের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, "উপকূলের অনেক এলাকায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে মানুষের পানির চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে টনি বলেন, "উপকূলীয় এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রভাব নিয়েও মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি।" তার দাবি, স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিভিন্ন নদীতে মাছ কমে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছেন।
টনি আরও বলেন, "সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে শুধু উদ্যোগ নিলেই হবে না, যত দ্রুত সম্ভব সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।"
নদী ও মানুষের জীবন-জীবিকার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, "নদী শুধু পানি প্রবাহের জায়গা নয়। নদীর সঙ্গে জেলে, নৌকা, জাল, মাছের আড়ত, বাজারসহ উপকূলের বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই নদীর স্বাস্থ্য ও মানুষের জীবিকার বিষয়টি উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়া দরকার।"
নাটোরের বনপাড়ার বাসিন্দা টনি পেশায় বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। ২০১৯ সাল থেকে দীর্ঘপথে হাইকিং করছেন তিনি। এর আগে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ভোমরা থেকে সাকা হাফং এবং রৌমারী থেকে চর কুকরিসহ বিভিন্ন দীর্ঘপথের অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
এবারের ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ অভিযানে উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরাপদ সুপেয় পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান টনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন