প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলতে।
সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা শিশুদের মানুষ করার কারিগর। সুতরাং খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো শিশু নির্দয় হয়ে বেড়ে না ওঠে। সেটি হোক প্রাণী বা পশু-পাখির প্রতি। তাদের প্রতি যেন তারা নির্দয় না হয়। তাই আপনারা শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলবেন।
তিনি যোগ করেছেন, ‘দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক দরকার। আর এই মানবিক সৈনিক আপনারা গড়ে তুলবেন। আর শিশুরা মানবিক মানুষ হয়ে বেড়ে উঠলে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান চলাকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক এবং বাইবেল থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে প্রাথমিক শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানে এসে মনে হচ্ছে আমি একটি কারখানায় ঢুকে পড়েছি। যেখানে সবাই মানুষ গড়ার কারিগর।’
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রাথমিক শিক্ষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়তে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারাই পারেন শিশুদের মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে।’
তিনি বলেন, ‘জানি, আপনাদের কিছু সীমাবদ্ধতা এবং সংকট রয়েছে। আমরা সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো। তবে আপনাদের জন্য ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো, যেন আপনারা অর্জিত সেই জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারেন।’
শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাদের প্রতিবছর একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা প্রতিবছর বর্ষাকালে একটি করে গাছ লাগাবে। গাছটাও বড় হবে, সঙ্গে তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু। গাছের নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে, শান্তি পাবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সূচনা বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
এ সময় দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের মাঝেই খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। একের পর এক গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটক চলতে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথি সারিতে বসে এসব আয়োজন উপভোগ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন