প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল মাংস খাওয়া এড়ানো এবং সুস্থ থাকা। কিন্তু এই উদ্দেশ্য সংক্রান্ত নিয়তির পরিহাসে ব্রিটিশ মিডিয়া কর্মী লোরি ডেনম্যানের জীবন নরকে পরিণত হয়েছিল। তার অজান্তেই, মস্তিষ্কে ৩৮টি জীবন্ত পরজীবী বাসা বেঁধেছিল। ৪২ বছর বয়সী এই নারীর দারুণ রোমহর্ষক ও অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
এমন ঘটনা ঘটে ২০১০ সালে, যখন একটি রেস্তোরাঁর শৌচাগারে গিয়ে লোরি তার শরীর থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা পান এক মিটার লম্বা একটি ফিতাকৃমি। লোরির কথায়, ‘এটি দেখতে ছিল অত্যন্ত বিরক্তিকর, ঠিক যেন একটি খাঁজকাটা সেলোটেপ।’ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি ছিল ‘নিউরোসিস্টাইসারকোসিস’ নামের একটি ভয়াবকরূপে বিরল রোগের প্রথম বাহ্যিক লক্ষণ।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. ব্র্যান্ডন হিলির মত অনুযায়ী, ২০০৭ সালে তিন মাসের ভারত সফরের সময় লোরি এই ভয়ংকর পরজীবীর সংস্পর্শে আসেন। ফুড পয়জনিং এড়াতে লোরি পুরো সফরের সময় মাংস খাওয়া বন্ধ রাখলেও, হয়তো ভালোভাবে না ধোয়া কোনো শাকসবজি বা কাঁচা খাবার খাওয়ার কারণে শূকরের ফিতাকৃমির ক্ষুদ্র ডিম শরীরে প্রবেশ করেছে।
কৃমি বেরিয়ে আসার এক বছরের মাথায় লোরির জীবনে ঘটে বিপর্যয়। ২০১১ সালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হওয়ার পর তিনি কর্মক্ষেত্রে মারাত্মক খিঁচুনির শিকার হন। হাসপাতালে ক্যাট স্ক্যান এবং এমআরআই করার পরে চিকিৎসকেরা লোরি এবং তার মায়ের সামনে যে রিপোর্ট দেখিয়েছিলেন, তা ছিল কল্পনাতীত। লোরির মস্তিষ্কের ভেতরে তখন ৩৮টি ফিতাকৃমির লার্ভা বা পরজীবী কিলবিল করছিল।
প্রাথমিক চিকিৎসায় পরজীবীনাশক ওষুধ ও স্টেরয়েডস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও কিছু বছর পর রোগটি আরও ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়। পরজীবীগুলোর চারপাশে লোরির মস্তিষ্কে বিশাল ফোলা অংশ বা ইনফ্লামেশন তৈরি হয়। ফলে লোরির মধ্যে তীব্র মানসিক বিভ্রম বা সাইকোসিস এবং প্যারানয়া দেখা দেয়। তিনি তার কর্মক্ষমতা হারান এবং সম্পূর্ণ অবুঝ শিশুর মতো আচরণ শুরু করেন।
লোরির দীর্ঘদিনের বান্ধবী নিকোলা ব্রাউন সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি চারণ করে বলেন, ‘আমি হাসপাতালে ওকে দেখতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। ৪২ বছরের একটি মানুষ মেঝেতে হামাগুড়ি দিচ্ছিল, পর্দার আড়ালে লুকাচ্ছিল এবং বাবার কোলে পাঁচ বছরের শিশুর মতো বসে ছিল।’
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসার পর, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, লোরির মস্তিষ্কে থাকা পরজীবীগুলো এখন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় এবং শক্ত পাথরের মতো (ক্যালসিফাইড) হয়ে গেছে। এগুলোকে বের করার জন্য কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। ২০১৭ সালের পর লোরির নতুন করে কোনো খিঁচুনি বা মানসিক বিভ্রম দেখা দেয়নি। তবে এই দীর্ঘ লড়াইয়ের ক্ষতের কারণে সারাজীবন তাকে মৃগীরোগের ওষুধ খেয়ে যেতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন