প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
স্ত্রীর নিথর দেহ ঘরে পড়ে ছিল। শোকের আবহে ফজরের আজান দিতে ও নামাজ আদায় করতে মসজিদে গিয়েছিলেন স্বামী রোমান মোল্যা (৬০)। কিন্তু নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর এই ঘটনা নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের মালিডাঙ্গা গ্রামে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর স্থানীয় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্বামী-স্ত্রীর জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। তবে কুয়েতপ্রবাসী ছেলে দেশে ফেরার অপেক্ষায় তাদের মরদেহ দাফন করা হয়নি।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রোমান মোল্যার স্ত্রী গত সাত বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন। মাঝে মাঝে কিছুটা সুস্থ হলেও বেশিরভাগ সময় তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান।
রোমান মোল্যা স্থানীয় মালিডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের নিয়মিত মোয়াজ্জিন ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পরও নিয়ম অনুযায়ী ফজরের সময় মসজিদে গিয়ে আজান দেন এবং জামাতে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি মারা যান।
স্বামী-স্ত্রীর এমন মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল বাশার জানান, এই দম্পতির ছেলে জসিম জীবিকার তাগিদে কুয়েতে থাকেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সোমবার তিনি বাড়িতে পৌঁছানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন