প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফিনল্যান্ডে বসবাসরত এক প্রবাসী নারীকে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে যৌতুক এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বাসিন্দা মো. আজিমুর রহমান ওরফে আজিম গাজীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
অভিযোগ রয়েছে যে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফিনল্যান্ডে একাধিক ফৌজদারি মামলায় আদালতের পরোয়ানা রয়েছে। এমন তথ্য মামলার আর্জি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, ১৩ জুলাই তারিখে দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারার একটি মামলা আমলে নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।
মামলার আর্জি অনুযায়ী, বাদী একজন বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ডের দ্বৈত নাগরিক এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিনল্যান্ডে বসবাস করেছেন। বাদী অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে তার পরিচয়ের পর মো. আজিমুর রহমান নিজেকে অবিবাহিত এবং সাবেক সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর আত্মহত্যার ভয়ভীতি, মানসিক চাপ এবং আবেগের সুযোগ নিয়ে তিনি তাকে বিয়েতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি ঢাকার মিরপুরের একটি কাজী অফিসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বাদীর আরজি অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই মো. আজিমুর রহমান বিভিন্ন অজুহাতে বাদীর কাছ থেকে ধার, সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলে ধারাবাহিকভাবে অর্থ নেওয়া শুরু করেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালে এবং পরে ফিনল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় ভিসা, বিমানভাড়া, হোটেল খরচ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স, পারিবারিক ব্যয়সহ জমি-সংক্রান্ত বিষয়, ব্যবসা, মায়ের চিকিৎসা ও অন্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে তিনি বারবার অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় বাদীর পরিবারের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময় অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি বাদীর মায়ের বন্ধক রাখা জমি ছাড়ানোর জন্যও অর্থ নিয়ে নিয়েছেন। বাদী দাবি করেছেন, বিভিন্ন সময় ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, নগদ অর্থ এবং পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মোট প্রায় ৯০ লাখ টাকা আসামিকে প্রদান করা হয়েছে। এসব লেনদেনের উল্লেখযোগ্য অংশের ব্যাংক ও আর্থিক নথি তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া, বিয়ের পর ফিনল্যান্ডে যাওয়ার আগে বাদীর পরিবারের কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার গ্রহণ করা হয়েছিল। পরে ওই স্বর্ণ ফেরত চাইলে তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে যাওয়ার পর আসামি বাংলাদেশের পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রাজকীয় বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং ফিনল্যান্ডে একটি বার স্থাপনের জন্য ৮ কোটি টাকা দাবি করেছেন। ২০ জুন বাংলাদেশে একটি খামার স্থাপনের জন্য ৪২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে বাদী যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় ঢাকার আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
বাদীর অভিযোগ হচ্ছে যে, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে। যখন এ বিষয়ে তিনি জরুরি সেবায় ফোন করেন, ফিনল্যান্ডের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে আটক করে। ওই ঘটনার পর পুলিশি তদন্তের ভিত্তিতে ফিনল্যান্ডে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ফিনল্যান্ডের আদালতে মো. আজিমুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন, প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে ইউরোপে যাওয়ার অভিযোগ, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, ভরণপোষণের ব্যয় বহনে বাধ্য করা, ম্যারিটিয়াল রেপ এবং শিশুর সামনে অনৈতিক আচরণ সংক্রান্ত মোট চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার বিরুদ্ধে আলাদাভাবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আর্জিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, আসামির বিরুদ্ধে ইউরোপে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তিনি শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন। বাদীপক্ষের দাবি, আসামি বর্তমানে বাদীকে তালাক না দিয়ে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে নতুন নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছেন। একই সঙ্গে, বিগত বিবাহগুলোর তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে সে ব্যক্তিগত দাম্পত্য জীবনকে বিগত করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী অভিযোগ করেছেন যে, এসব ঘটনার ফলে তিনি এবং তার সন্তান গুরুতর মানসিক ট্রমা, বিষণ্নতা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বর্তমানে তারা ফিনল্যান্ডে চিকিৎসা ও থেরাপি নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করতে পারবেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে যে, আসামির পরিবারকে গোটা বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি; বরং আসামিকে সমর্থন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী আদালতের কাছে অভিযোগ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আবেদন জানিয়েছেন, যা আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা, তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত এবং অন্যান্য আইনি প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আজিমুর রহমান ওরফে আজিম গাজীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে, ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন