প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পারমাণবিক ফিউশন শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি সাধন করেছে চীন। দেশটি ‘কৃত্রিম সূর্য’ নামে পরিচিত একটি ফিউশন প্রকল্পের জন্য রেকর্ড ৫৮২ টন ওজনের একটি অতিপরিবাহী চৌম্বক তৈরি ও পরীক্ষায় সফলভাবে এগিয়ে এসেছে।
ফর্বসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হেফেইয়ের ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স এই বিশাল ম্যাগনেটটি তৈরি করেছে। এটি এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় ম্যাগনেট যা ফিউশন রিয়্যাক্টরের জন্য নির্মিত হয়েছে। ‘ডি’ আকৃতির এই কয়েলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ মিটার এবং প্রস্থ ১২ মিটার।
এই ম্যাগনেটটি ব্যবহৃত হবে চীনের ‘বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ রিয়্যাক্টরে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে যে প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয়, সেই পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়াকে পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই এই রিয়্যাক্টরটি উন্নয়ন করা হচ্ছে।
ফিউশন প্রক্রিয়া চালাতে প্লাজমাকে ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসের অধিক তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে হবে। এই তাপমাত্রা সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। কোনো প্রচলিত পদার্থ এসব তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম নয়। তাই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করা হবে প্লাজমাকে রিয়্যাক্টরের দেয়াল থেকে দূরে ভাসমান অবস্থায় রাখার জন্য।
এজন্য রিয়্যাক্টরটিকে ঘিরে মোট ১৬টি এ ধরনের কয়েল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিশাল চৌম্বকগুলো প্লাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ফর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রিয়্যাক্টরের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর পর ২০৩০ সালের দিকে ফিউশনভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফিউশন শক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে বিপুল পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাথে তুলনা করলে দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ঝুঁকিও কম হতে পারে।
সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের পর চীন এখন ফিউশন শক্তির মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার এবং ভবিষ্যৎ শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে থাকায় ফিউশন শক্তির দিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নজর দিচ্ছে।
তবে বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন শক্তি উৎপাদন এখনো একটি বড় বৈজ্ঞানিক এবং প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। এই দিক থেকে চীনের ৫৮২ টনের অতিপরিবাহী ম্যাগনেটের সফল নির্মাণ ও পরীক্ষা ফিউশন শক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে চালানো হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন