প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর জেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং কৃষকরা ভালো দাম পেয়ে বেজায় খুশি। বর্তমানে পাটের ভরা মৌসুম চলছে, যা কৃষকদের জন্য ব্যস্ত সময়ের সৃষ্টি করেছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ, বিল, নদী, খাল, ডোবা ও জলাশয়ে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত কৃষকরা পাট গাছ কেটে পানিতে জাগ দিতে ব্যস্ত। পানিতে জাগ দেয়া পাট গাছগুলো তুলে আঁশ ছাড়ানো এবং পাটের আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানোর কাজে কৃষকরা এখন সময় কাটাচ্ছেন। জেলাব্যাপী পাট সংশ্লিষ্ট এই কর্মব্যস্ততা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। নতুন পাটও হাট বাজারে উঠতে শুরু করেছে।
এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পাটের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। দামও সন্তোষজনক, যা কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। অধিক ফলন এবং ভালো দামে কৃষকদের চোখে মুখে ক্লান্তির কোন চিহ্ন নেই। জেলায় এবছর প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার ২শ’ টাকায়।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে পাট চাষ কিছুটা বেশি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর কৃষকরা প্রতিমণে ৫শ’ টাকা থেকে ৮শ’ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম পাচ্ছেন। ফলে তারা আবার সোনালি আঁশে নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন।
অপরদিকে, কৃষকদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কৃষি বিভাগ পাটের সুদিন ফেরাতে প্রণোদনা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। গত বছর প্রতিমণ পাট বিক্রি দাম ছিল ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা। এবছর আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় আশানুরূপ ফলন এবং দামও ভালো পাওয়ায় কৃষকরা সন্তুষ্ট।
জেলার সদর উপজেলার রানিহাটি ইউনিয়নের পাট চাষী মো. আকবর আলী বাসস’কে জানিয়েছেন, এ বছর ভালো আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও বেশ ভালো। তিনি জানান, এবছর তিনি ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। মোট খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। ২ বিঘা জমিতে পাট হয়েছে ২৮ মণ। এই পাট বিক্রি করে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা পেয়েছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের পিয়ালিমারি গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, তিনি ৩ বিঘা জমিতে দেশি ও তোষা পাটের আবাদ করেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এক বিঘা দেশি পাট কেটে জাগ দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে প্রথমবার ১৩ মণ পাট ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুব খুশি।
কৃষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিঘা প্রতি মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে কৃষকরা আয় করছেন ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাই তারা আবার সোনালি আঁশে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। তবে কৃষকরা পাট চাষে সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর দাবি করেছেন।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৪০ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহের কারণে ২৭২৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিকুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া ভাল হওয়ায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে এখন দামও ভালো মিলছে। কাজেই কৃষকরা খুব খুশি। তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় পাট চাষ কিছুটা বেশি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন