প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এশিয়ান গেমসে ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে জাপানে গিয়েছিল। তবে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে এবং ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয়ে পদক ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে লিটন দাসের দলকে। দলের এমন ব্যর্থতায় প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
শনিবার নিশিনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে টাইগারদের ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।
ম্যাচ শেষে সালাউদ্দিন নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন, দলের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করতে পারেননি তারা।
সালাউদ্দিন বলেন, "সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।"
এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ কোচ ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্যের প্রতিফলন দেখা যায়নি। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের ম্যাচেও শ্রীলঙ্কার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে ভালো শুরু করেছিল। মাত্র ২১ রানে প্রতিপক্ষের চার উইকেট তুলে নেয় দল। তবে থারিন্দু রাত্নায়েকের ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত তারা ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে।
বাংলাদেশের হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাউদ্দিন বোলিংয়ের কিছু খারাপ ওভার এবং পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং বিপর্যয়কে দায়ী করেন। তিনি বলেন, "এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারা বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে বেশি উইকেট হারিয়েছি।"
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংও আলোচনায় এসেছে। তিন ওভারে ৪৩ রান দিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। আগের ম্যাচেও তিনি নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। তবে সালাউদ্দিন মোস্তাফিজের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কোচ বলেন, "আসলে মোস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।"
অধিনায়ক লিটন দাসের পারফরম্যান্সও হতাশাজনক ছিল। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ মিলিয়ে তিনি মাত্র ২ রান করেছেন। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফিরে যান লিটন।
অধিনায়কসহ দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, "আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।"
শ্রীলঙ্কার রান তাড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ শুরুতেই ধসে পড়ে। সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও লিটন দাস তিনজনই রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান। মাত্র ৪ রানে তিন উইকেট হারানোর পর দল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা ও মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রধান কোচ খেলোয়াড়দের চেষ্টার ঘাটতি দেখছেন না। তার মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারা এবং দ্রুত উইকেট হারানোই পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
সালাউদ্দিন বলেন, "প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।"
এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এমন বিদায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় দলের একাধিক নিয়মিত ক্রিকেটারদের প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় দলের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্স নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন