প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক সময়ের অনুর্বর স্থানটি ছিল ঘাস ও পাথরে ভরা। সেখানে ১২ হাজার টন কমলার খোসা এবং কমলার পাল্প ফেলে রাখা হয়েছিল একটি প্রতিষ্ঠানের দ্বারা। ১৬ বছর পর সেখানে গিয়ে বিজ্ঞানীরা অভিভূত হন।
এটি মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার একটি জাতীয় উদ্যানের ঘটনা।
গবেষকেরা পরে আবিষ্কার করেন, যে তিন হেক্টর জমিতে কমলার খোসা ফেলা হয়েছিল, সেখানে গাছের বায়োমাস (একটি এলাকায় থাকা গাছপালার মোট ভর) ১৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া, সেখানে মাটির গুণমান, গাছের বৈচিত্র্য এবং বনের ঘনত্ব, সবই পার্শ্ববর্তী জমির তুলনায় বেশি ছিল। কীভাবে এমনটি সম্ভব হয়েছিল?
কমলার খোসা থেকেই শুরু
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কোস্টারিকার উত্তর সীমান্তে ডেল অরো নামের একটি প্রতিষ্ঠান কমলার জুস তৈরির কারখানা স্থাপন করে।
পরিবেশবিদ ড্যানিয়েল জানজেন ও উইনি হলভাক্স তখন কোস্টারিকার গুয়ানাকাস্তে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কাজ করছিলেন। তারা ডেল অরোকে একটি প্রস্তাব দেন।
প্রতিষ্ঠানটি যদি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য কিছু বনভূমি দান করে, তাহলে জাতীয় উদ্যানে তাদের কমলার খোসা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য ফেলার অনুমতি দেওয়া হবে। সেগুলি ধীরে ধীরে পচে মাটির সাথে মিশে যাবে।
ডেল অরো প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। ১৯৯৭ সালের চুক্তির পর প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কমলার খোসা ও পাল্প ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে অনুর্বর জমিতে ফেলা হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই আইনি জটিলতা শুরু হয়।
ডেল অরোর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান টিকোফ্রুট অভিযোগ করে, জাতীয় উদ্যানে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলে জায়গাটি ‘নষ্ট’ করা হয়েছে।
মামলাটি কোস্টারিকার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালত টিকোফ্রুটের পক্ষে রায় দেয়। এরপর প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত জায়গাটির কথা কেউ মনে রাখেনি।
২০১৩ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টিমোথি ট্রয়ের পরিবেশবিদ ড্যানিয়েল জানজেনের সাথে গবেষণার সম্ভাব্য বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালীন পুরোনো কমলার খোসার স্থানটির কথা উঠে আসে।
ট্রয় সেখানে গিয়ে যা দেখলেন, তা তার কল্পনার চেয়েও বেশি চমকপ্রদ ছিল।
জায়গাটি এতটাই ঘন গাছপালা ও লতায় ঢেকে গিয়েছিল যে রাস্তার পাশে প্রায় ৭ ফুট লম্বা উজ্জ্বল হলুদ সাইনবোর্ডটিও গাছের আড়ালে পড়ে গিয়েছিল, কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।
পাশের জমির সঙ্গে তুলনা
গবেষকেরা এবার জানতে চাইলেন, কমলার খোসা কি সত্যিই এই পরিবর্তনের কারণ? তারা কমলার খোসা ফেলা জমি এবং রাস্তার অপর পাশে অবস্থিত একই ধরনের জমির মধ্যে তুলনা করেন।
গবেষকেরা দুই জায়গায় গাছের সংখ্যা, গাছের আকার ও প্রজাতি পরিমাপ করেন। মাটির নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল ছিল স্পষ্ট।
কমলার খোসা ফেলা জমির মাটি ছিল অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ। সেখানে গাছের বায়োমাস বেশি, গাছের প্রজাতিও বেশি এবং বনের ওপরের সবুজ ছাউনিও ছিল ঘন।
অর্থাৎ যে বর্জ্য একসময় ছিল একেবারেই ফেলনা, সেটিই ধীরে ধীরে অনুর্বর জমিকে আবার সবুজ করে তুলেছিল।
প্রিন্সটনের গবেষকদের এই গবেষণা প্রকাশিত হয় ‘রেস্টোরেশন ইকোলজি’ সাময়িকীতে। গবেষণার অন্যতম লেখক টিমোথি ট্রয়ের মতে, কৃষি ও খাদ্যশিল্পের বর্জ্য ব্যবহার করে বন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই।
এই ঘটনা আরও একটি বিষয় প্রমাণ করে। খাদ্য তৈরির সময় যে অংশটুকু আমাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, প্রকৃতির কাছে সেটি কখনো কখনো মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
প্রিন্সটনের পরিবেশবিদ ডেভিড উইলকোভের ভাষায়, মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করতে গিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় পরিবেশগত সমস্যাও তৈরি করে। তবে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সেই সমস্যার কিছুটা সমাধানও করা সম্ভব।
সূত্র: প্রিন্সটন ডটএডু
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন