প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের সেডোনা শহরের ওক ক্রিকের নিকটে আকস্মিক ও তীব্র বন্যার কবলে পড়েছিলেন এক দম্পতি। তবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তারা তাদের পোষা কুকুরটিকে ছেড়ে আসতে রাজি হননি, বরং তাকে বাঁচানোর জন্য একটি চমৎকার উপায় বের করেন।
‘পিপল’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, আলেকজান্ডার ডেল, তার স্ত্রী এবং তাদের ভাড়াবাড়িতে থাকা প্রায় ৯ জন অতিথি দ্রুত বাড়তে থাকা ঘোলা জলের কারণে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পালানোর কোনো উপায় না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা দম্পতির সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।
আলেকজান্ডার ডেল বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারছিলাম না কী করা উচিত। আমাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা ছিল না।’
সাহায্যের জন্য তারা প্রায় তিন ঘণ্টা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করেন। অবশেষে একটি জরুরি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সেখানে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর দেখা দেয় একটি নতুন জটিলতা, যখন উদ্ধারকারী দল জানায় যে তাদের কাছে কুকুরের জন্য কোনো বিশেষ সুরক্ষাবেষ্টনী (K-9 harness) নেই এবং তারা নিশ্চিত নয় যে কুকুরটিকে কীভাবে নিরাপদে বিমানে তোলা যাবে।
ডেল সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে বলেন, ‘সেখানে একটি হেলিকপ্টার আসে এবং তাতে একটি বিশাল রশি ঝোলানো ছিল।’ জরুরি সেবার কর্মীরা একে একে সবাইকে হারনেসে আটকে বিমানটিতে তুলে নিচ্ছিলেন, কিন্তু ওই পরিবারের জন্য সেখানে বাঁধে বিপত্তি।
পোষা কুকুরটির কথা উল্লেখ করে ডেল বলেন, ‘উদ্ধারকর্মী আমাকে বললেন, আমাদের কাছে কুকুরের জন্য কোনো হারনেস নেই, তাই আমরা তাকে নিতে পারব কিনা জানি না। তখন আমি বললাম, তাহলে আমরা এখন কী করব?’
কিন্তু কোনোভাবেই হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না ডেল। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তিনটি সাধারণ হারনেস জোগাড় করেন এবং সেগুলোকে একসঙ্গে শক্ত করে বেঁধে কুকুরের শরীরে উপযুক্ত মাপে সেট করে নেন।
ডেল আরও জানান, ‘আমরা তার গায়ে তিনটি হারনেস পরিয়ে সবগুলো একসঙ্গে আটকে দিলাম। আমি সেই হারনেসে বসে আমার কুকুরটিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলাম এবং মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম যেন সে কোনো বিপদে না পড়ে।’
শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই পোষা কুকুরটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন তারা।
উল্লেখ্য, জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, পাহাড়ি ঢলের দ্রুত প্রবাহিত পানির কারণে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি জরুরি উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন