প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ময়মনসিংহ নগরীতে মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণে আহত সাবেক যুবদল নেতা রাজা মিয়া (৪০) মারা গেছেন। এই ঘটনার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত রাজা মিয়া নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্টপুর এলাকার মমরোজ মিয়ার পুত্র। তিনি মহানগর যুবদল ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
এর আগে, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকায় রাজা মিয়াকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম রাজা মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রাজা মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামি কবিরসহ (৩০) তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্য দুই আসামি হলেন বিনু (৩৮) ও নিশাত (২৫)। গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে নাস্তা খেয়ে রাজা মিয়া ঘরে শুয়ে ছিলেন। এই সময় কবিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন হামলা চালায়। হামলার সময় কবির শাবল দিয়ে রাজা মিয়ার মাথায় আঘাত করে, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
কিন্তু সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় রাজা মিয়াকে আবারও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। শনিবার বিকেলে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি রাজা মিয়া কবির ও তার লোকজনকে মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল, যা ২২ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়ার উপর হামলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশের একটি পক্ষ দাবি করছে যে উভয় পক্ষই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে, কতগুলো মাদক মামলা কার নামে রয়েছে তা জানাতে পারেনি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন শাকিল বলেন, রাজা মিয়া মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় দলের সঙ্গে ছিলেন। তাকে যে বা যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। তবে, রাজা মিয়া মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বলেও তিনি জানান।
ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ মর্গে রয়েছে। নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে শুক্রবার রাতে ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন