প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভোলার চরফ্যাশনে হেরিং বোন বন্ড (ইটের সলিং) সড়কের ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করার অভিযোগ উঠেছে এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। সড়কের ইটগুলো তুলে নেওয়ার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসা চৌমাথা থেকে দক্ষিণে ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের জন্য এলজিএসপি-৩-এর অর্থায়নে ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়ে মেসার্স সূচনা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজ বাস্তবায়ন করে।
তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর প্রকল্পের আওতায় ৬০০ ফুট রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৫৮ টাকা। এ কাজের তদারকি করছেন এওয়াজপুর ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টিআর প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ওই হেরিং বোন বন্ড সড়কের ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, কয়েক দিন আগে এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জামাল উদ্দিন রাস্তাটি ভালোভাবে ইটের সলিং করার কথা বলে সড়কের ইটগুলো তুলে নিয়ে গেছেন। পরে ভেকু দিয়ে রাস্তায় কাদা-মাটি ফেলে চলে যায়। এ কারণে বর্তমানে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তাদের দাবি, আগের হেরিং বোন বন্ড সড়কটি ভালো ছিল।
স্থানীয় জাফর বলেন, এওয়াজপুর ইউনিয়নের সচিব জামাল উদ্দিন এ সড়কের কাজ করেছেন। সেই কাজের দায়িত্ব আমি পালন করেছি। জামাল উদ্দিন পূর্বের ইটের সলিং তুলে কাদামাটি ফেলেছেন।
এওয়াজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল মান্নান বলেন, এই রাস্তাটি ২০২০-২১ অর্থবছরে ইটের সলিং করা হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী ইটের সলিংয়ের ওপর দিয়ে চলাফেরা করেছি। পূর্বের ৬৬০ ফুট ইটের সলিং তুলে নিয়ে মাটি ফেলা হয়েছে। এখন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটছে। তাই আমরা পূর্বের সলিং ফিরে পেতে চাই।
একই অভিযোগ করেছেন আবি আবদুল্লাহ ও জসিম মোল্লা। তারা বলেন, হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের পর থেকে মানুষ সুন্দরভাবে চলাচল করতে পারত। কিন্তু ইটগুলো তুলে নেওয়ার কারণে এখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইটের সলিং থাকাকালীন সময়ে এই রাস্তায় গাড়ি চলাচল করত। বর্তমানে হাঁটুসমান কাদামাটির কারণে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, বহু আগে রাস্তাটি কাঁচা ছিল। পরে বিগত সরকারের আমলে ইটের সলিং করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা দিয়ে সুন্দরভাবে চলাচল করা গেলেও বর্তমানে ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন ভেকু দিয়ে ইট তুলে ট্রাকভর্তি করে নিয়ে গেছেন। তার পর রাস্তায় কাদামাটি ফেলে চলে গেছেন।
ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন বলেন, আগের সলিং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি ইটগুলো তুলে নিয়ে মাটি ফেলেছি।
ইটগুলো তুলে কাদা-মাটি ফেলতে পারেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন অবগত আছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে ইউপি সচিব যদি আমার বিষয়ে কিছু বলে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন