প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কৃষকরা সার না পাওয়ার কারণে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে। পরে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করার ব্যবস্থা করে কালীগঞ্জ কৃষি অফিস। এ সময় ডিলার শহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। রোববার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এই ঘটনা ঘটে। শহিদুল ইসলাম হচ্ছেন জামাল ইউনিয়নের নির্ধারিত ডিলার। তিনি ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করেছেন, বর্তমানে সার নেই। কৃষকদের দাবি, তাদের রোববার সার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে ডিলার পয়েন্টে আসলে জানানো হয় যে শুক্রবার ও শনিবার সার বিতরণ হয়ে গেছে, তাই আর সার দেওয়া হবে না। এ সময় উপস্থিত কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে আরো কৃষক আসলে তারা ডিলার পক্ষের সহযোগিতায় গোডাউন খুলে ৬০ বন্তা সার দেখতে পান।
ডিলার শহিদুল ইসলামের চলতি সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ৬৪ টন সারের চাহিদা ছিল। তিনি প্রথম সপ্তাহে ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। ৫৮ টন সারে বস্তা হয় প্রায় ১ হাজার ২০০। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা ডিলার পয়েন্টে থাকা সার বিতরণ রেজিষ্টারে দেখতে পান যে বিতরণকৃত নামের তালিকায় মাত্র ৫ শতাংশ ফোন নাম্বার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন কৃষককে ফোন করা হলে, একজন জানায় সে সার পেয়েছে, বাকি ৮ জনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল জানান, "আমরা যে সার আছে তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছি। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরো সার আনা হচ্ছে যা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া আমরা সার বিতরণের রেজিষ্টার পরীক্ষা করছি কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা।"
চলতি আমন ধানের ভরা মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। ইউরিয়া সারের সাথে টিএসপি ও ডিএপি সারের জন্য কৃষকদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে জেলার শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার নিতে আসেন স্থানীয় কৃষকরা। এ সময় ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষকরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসলেও জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলায় সারের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। প্রতিমাসের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ ডিলাররা উত্তোলন করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে চাহিদামতো সার মিলছে না কিন্তু বেশি দাম দিলে খোলা বাজারে সারের অভাব নেই।
ঝিনাইদহে কালীগঞ্জে অবস্থিত বাফার গোডাউনের ইনচার্জ অহিদুর রহমান, ডিলার শহিদুল ইসলাম চলতি মাসের চাহিদার ৬৪ টনের মধ্যে ৫৮ টন উত্তোলন করেছেন। সারের মজুদ ও বিতরণ সম্পর্কে তিনি জানান, "ইউরিয়া সারের মজুদ, আমদানি ও বিতরণে কোন রকমের ঘাটতি বা অনিয়ম নেই।" কালীগঞ্জের এ সার গোডাউন থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১২৬ ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। গত বছরের একই মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন। অভিযুক্ত ডিলার শহিদুল ইসলাম জানান, "আমি যে সার উত্তোলন করেছিলাম তা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত সারের রেজিষ্টার রয়েছে, দেখতে পারেন। চাহিদার থেকে কম সার পাওয়া গেলে আমার কি করার আছে।"
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, সংবাদ পেয়ে আমরা সেখানে দ্রুত কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে। আরো সার সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, "সারের কোন ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন