প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার আশায় নিজের সহবন্দিকে হত্যা করেছিলেন জেমস রবার্টসন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ১৮ বছর পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ৬৩ বছর বয়সী রবার্টসন ২০০৮ সালে ঘুমন্ত অবস্থায় সহবন্দি ফ্র্যাঙ্ক হার্টকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন। তিনি মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সব ধরনের আপিলের অধিকারও ছেড়ে দিয়েছিলেন।
ফ্লোরিডার স্টার্কে অবস্থিত রাজ্য কারাগারে তিন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করে রবার্টসনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। শেষ মুহূর্তে কিছু বলতে চান কি না, জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছু বলেননি। প্রায় ১০ মিনিট পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রবার্টসনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। এর দুই সপ্তাহ আগে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। প্রাণঘাতী ওষুধের দুটি মাত্রা প্রয়োগের পরও তিনি বেঁচে থাকায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফ্লোরিডার সংশোধন বিভাগের মুখপাত্র জর্ডান কার্কল্যান্ড মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পদ্ধতি ও নিয়ম যথাযথ। টেনেসির পদ্ধতি সম্পর্কে মন্তব্য না করলেও ফ্লোরিডায় প্রক্রিয়াটি মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন তিনি।
ফ্লোরিডায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রথমে ঘুমের ওষুধ, এরপর পেশি অচল করার ওষুধ এবং সবশেষে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়—এমন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
২০০৮ সালে ঘুমন্ত অবস্থায় ফ্র্যাঙ্ক হার্টকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে রবার্টসন প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছিলেন, কারাগারে বাকি জীবন কাটাতে চান না বলেই সহবন্দিকে হত্যা করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল মৃত্যুদণ্ড পাওয়া।
১৯৮০ সালে ডাকাতি ও হামলার অপরাধে মাত্র ১৭ বছর বয়সে কারাগারে যান রবার্টসন। পরবর্তীতে কারাগার থেকে পালানো, মারধর এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে একাধিকবার দণ্ডিত হওয়ায় তার কারাবাসের মেয়াদ বাড়তে থাকে। অন্যদিকে, যৌন নিপীড়নের অপরাধে ২০০৩ সালে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল হার্টকে।
হার্টের মেয়ে রেবেকা হার্ট সাংবাদিকদের বলেন, বাবার মুক্তি পাওয়ার মাত্র আট দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। বাবার মৃত্যুর শোকের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রিয়জনকে এভাবে হারানোর পরও পৃথিবীর অন্য মানুষের জীবন চলতে থাকে। কিন্তু স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বাকি জীবন কাটাতে হয় পরিবারকে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল। তবে গত সপ্তাহে গভর্নর রন ডিস্যান্টিস উইলিয়াম লি থম্পসনের মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা প্রত্যাহার করেন। কেন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার কোনো কারণ জানাননি তিনি। এর আগে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত মাসেও থম্পসনের মৃত্যুদণ্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ডিস্যান্টিসের দায়িত্বকালে এই প্রথম কোনো মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা প্রত্যাহার করা হলো। ৭৪ বছর বয়সী থম্পসন এখনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে নতুন করে মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা জারি হতে পারে।
থম্পসনের আইনজীবীদের দাবি, তিনি স্মৃতিভ্রংশে ভুগছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়েছেন তারা।
১৯৭৬ সালে ২৩ বছর বয়সী স্যালি আইভেস্টারকে হত্যার ঘটনায় থম্পসনকে প্রথম ডিগ্রির হত্যা, অপহরণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এর আগে ফ্লোরিডার দুই সাবেক গভর্নর বব গ্রাহাম ও বব মার্টিনেজ ১৯৮০-এর দশকে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে একের পর এক আপিল ও স্থগিতাদেশের কারণে তখন তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। সে সময় ফ্লোরিডায় বৈদ্যুতিক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো।
২০২৫ সালে ফ্লোরিডার গভর্নর ডিস্যান্টিসের আমলে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর এক বছরে কোনো ফ্লোরিডার গভর্নরের অধীনে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
রবার্টসনকে নিয়ে ২০২৬ সালে ফ্লোরিডায় এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। থম্পসনের ঘটনা বাদে আরও দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন নির্ধারিত রয়েছে।
আগামী ২০ অক্টোবর ৭৭ বছর বয়সী উইলিয়াম রিভস এবং ৫ নভেম্বর ৬৪ বছর বয়সী জেসি গুয়ার্দাদোর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। ১৯৮৬ সালে এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তার সামনে অস্ত্র ফেলে দেওয়ার পর তাকে গুলি করে হত্যার দায়ে রিভস দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। আর ২০০৪ সালে মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে এক নারীকে ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন গুয়ার্দাদো।
মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই বছরও ফ্লোরিডা অন্য সব অঙ্গরাজ্যের চেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। আর ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত কার্যকর হওয়া ৩১টি মৃত্যুদণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি ফ্লোরিডায় কার্যকর হয়েছে।
গত জুলাইয়ে ফ্লোরিডায় একই দিনে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনো অঙ্গরাজ্যে একই দিনে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ছিল সেটি।
আগামী জানুয়ারিতে গভর্নরের পদ ছাড়ার কথা ডিস্যান্টিসের। এক বছরে এত বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে তিনি খুব বেশি প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। তবে আগে তিনি বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা ভুক্তভোগীদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন