প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন লালমাই পাহাড়ের পাশঘেঁষা সানন্দা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদের জিলানী তার ভাতিজার সঙ্গে (১৫) বাঁশ কাটতে যান। বেলা ১১টার দিকে বাঁশঝাড়ের নিকট পৌঁছানোর পর, তার ভাতিজা প্রথমে অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চাচাকে জানায়। এই পরিস্থিতিতে আবদুল কাদের জিলানী ভীত হয়ে ভাতিজাকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।
এরপর দুপুর দেড়টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করার পর সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন আবদুল কাদের জিলানী। এর আগে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে একটি ঝোঁপ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
জিলানী জানান, "আমরা ফেসবুক বা ইউটিউব চালাই না। এতকিছু ঘটেছে সেটিও জানি না।" পরে তিনি মামুন ভাইয়ের (একই গ্রামের বাসিন্দা) সঙ্গে দেখা করেন। মামুন ভাই তাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাডামের ছেলে হারিয়ে গেছে। এরপর জিলানী মামুন ভাইকে বলেন, "ওইখানে একটা বাচ্চা দেখে এসেছি পড়ে আছে।" তাৎক্ষণিকভাবে মামুন ভাইকে নিয়ে তিনি মরদেহের অবস্থানে যান। পরে মামুন ভাই পুলিশকে ফোন করে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ধীরে ধীরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) বিকেল থেকে ছেলেটি নিখোঁজ ছিল। আজ শনিবার মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। অপ্রতিমের মরদেহে রক্তের দাগ রয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও, কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সে সম্পর্কে পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানান, দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। আপাতত মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন