প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রংপুর নগরীতে শিক্ষক পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তিন সদস্যের একটি দল। এই দলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী, উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম এবং আবু সাঈদ বাবলা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার বিকেলে আরপিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আলোচিত ফোর মার্ডার নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা করি, এই হত্যকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে আছি। যেহেতু এটি একটি তদন্তাধীন, তাই এখানে কোনো তথ্য গোপন করার বিষয় নাই।"
তিনি আরো উল্লেখ করেন, আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত থাকবে। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে মামলার নিষ্পত্তি করা হবে ইনশাআল্লাহ।
এর আগে, সোমবার (৩১ আগস্ট) আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানায়। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, দেরিতে ডোপ টেস্ট করানোর কারণে এমন ফলাফল এসেছে।
একই দিন বিকেলে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। কিন্তু রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম দুদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
সোমবার আরপিএমপির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরেও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য সোমবার তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।
তিনি আরো জানান, রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
এদিকে, সোমবার একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে শিক্ষক পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ নতুন তথ্য পেয়েছে উল্লেখ করে সনাতন চক্রবর্তী জানান, গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে ঘটনার আগে এবং পরে অনেকবার কথা হয়েছে। তিনি বলেন, "৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার কথা বলেছে তারা। এর অর্থ ঘটনার আগে এবং পরে প্রতি ঘণ্টায় একবার; যা অস্বাভাবিক এবং এ কারণে হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে হতে পারে।"
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। বর্তমানে মামলাটি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন