প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) এর অধীন ভেটেরিনারি অনুষদের কার্যনির্বাহী ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করার পাশাপাশি নামমাত্র মূল্যে প্রাণীর চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে হাসপাতালটির অবকাঠামোগত এবং সেবাগত নানা সীমাবদ্ধতা এখন খুব পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।
সরাসরি পরিদর্শনের মাধ্যমে দেখা গেছে যে, অসুস্থ প্রাণীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে কোনো শেড নেই। হাসপাতালটি এখনও পর্যন্ত নিজস্ব অপারেশন থিয়েটার (ওটি), পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার রুম ও আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অভাবে ভুগছে। একটি পুরোনো এক্স-রে মেশিন থাকলেও বর্তমানে সেটি কার্যকর নয়। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকার কারণে হাসপাতালের পরিবেশ প্রায়ই অপরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, কক্ষসংকটের কারণে বায়োকেমিক্যাল অ্যানালাইজার ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে রাখা হয়েছে। এর ফলে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক এবং অণুজীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, ডা. খালেদ হোসেন বলেন, "আমাদের এক্স-রে মেশিন অনেক পুরোনো, যেগুলো ব্যবহার করাটা ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে বাজারে আধুনিক পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন পাওয়া যায় এবং সেগুলো আমাদের সংগ্রহ করতে হবে। বর্তমানে ওটি পরিচালনার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং অন্তত একটি কক্ষ পেলে আমরা নিজস্ব ওটি চালু করতে পারব। আপাতত সার্জারি বিভাগের ওটি ব্যবহার করছি। এছাড়াও প্রশাসনের কাছে আমরা একটি ওটি টেবিল চেয়েছি।"
পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট প্রসঙ্গে ডা. খালেদ হোসেন বলেন, "হাসপাতালের জন্য একজন স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী অত্যন্ত প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছি। আপাতত আমাদের ভান্ডার শাখার মাধ্যমে মাসে একবার কর্মী আনা হয়।"
যন্ত্রপাতি বিভিন্ন বিভাগে রাখার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, "হাসপাতালে যন্ত্রপাতি রাখার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত কক্ষ নেই। এ ছাড়া এগুলো ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানেরও প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান না থাকায় বায়োকেমিক্যাল অ্যানালাইজার ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।"
বিদ্যমান সমস্যার টেকসই সমাধান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়ার্কস সেকশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বাহাদুর বলেন, "এ ধরনের বড় প্রকল্পের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হয়। এরপর প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত দুই বছরে আমাদের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অগ্রাধিকার পেয়েছে। এ ছাড়া বাজেটও সীমিত ছিল। এখন কর্তৃপক্ষ যদি অন্য কোনো খাত থেকে বাজেট স্থানান্তর করে, তাহলে কাজটি করা সম্ভব হবে। আশা করছি, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন বাজেট এলে বিষয়টি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন