প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সামনে দিয়ে চলে যাবে, এমনটাই শিক্ষার্থীদের মনে হয়েছিল। দুর থেকে একটি নজর দেখা হবে এবং তারপর ফিরে যেতে হবে। কিন্তু, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পুরো দৃশ্য বদলে যায়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একঝাঁক শিক্ষার্থীর ডাকেই থেমে যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহর। এরপর তারা মহান ব্যক্তির সঙ্গে কুশল বিনিময়, গল্প, খেলাধুলার খোঁজ, এবং উপহার পায়। সব কিছু মিলিয়ে সোমবারের দুপুরটি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
সোমবার দুপুরে আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সাত মাইল এলাকা অতিক্রম করে বাবুগঞ্জের পূর্ব রহমতপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনে যাচ্ছিল। এই সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষা করছিল।
শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করে বহর থামানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বাস থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, সালাম দিয়ে তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার খোঁজ নেন। এই অবাক করা পরিস্থিতি পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে ওঠে।
আলাপচারিতার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ‘তোমাদের মধ্যে খেলাধুলা কে কে পছন্দ করো?’ প্রশ্ন শেষ হওয়া সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে হাত তুলে জানায়, তারা সবাই খেলাধুলা ভালোবাসে। তাদের সেই উচ্ছ্বাসে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফুটবল, ব্যাডমিন্টন সেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী উপহার প্রদান করেন। এছাড়া তিনি নিয়মিত খেলাধুলা, শৃঙ্খলাবোধ এবং সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এরপর আসে দিনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। এক শিক্ষার্থী লাজুক হাসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেলফি তোলার অনুরোধ জানায়। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে তার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়েই সেলফি তোলেন। ক্যামেরার একটি ক্লিকেই যেন ধরা পড়ে যায় একঝাঁক কিশোর-কিশোরীর স্বপ্ন, বিস্ময় এবং আনন্দ। মুহূর্তেই করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক এ. কে. আজাদ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। প্রধানমন্ত্রী এতটা আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন, খেলাধুলার সরঞ্জাম উপহার দেবেন এবং নিজ হাতে সেলফি তুলবেন—এটি তারা সারাজীবন মনে রাখবে।
সফরের ব্যস্ত সূচির মাঝেও কয়েক মিনিট সময় বের করে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এই মুহূর্ত উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় মানুষের জন্যও ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। বিদায়ের সময় প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায় শিক্ষার্থীরা। আর তাদের মোবাইল ফোনে রয়ে যায় এমন একটি ছবি, যা হয়তো অনেক বছর পরেও ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই স্মরণীয় দুপুরের স্মৃতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন