প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিদেশ সফরে গিয়ে একের পর এক নতুন পদক ও সম্মাননা নিয়ে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ২৭ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সেশেলস সফরে গিয়ে তিনি লাভ করেছেন গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন নামক একটি ট্রফি ও সম্মাননা। কিন্তু এই নতুন পদকপ্রাপ্তি বিশ্বমঞ্চে প্রশংসার চেয়ে বেশি কৌতুক এবং সমালোচনা কুড়িয়েছে। কারণ, মোদির সফরের মাত্র তিন দিন আগে তাড়িঘড়ি করে এই পুরস্কারটি তৈরি করা হয়েছে এবং এর সার্টিফিকেটে বানান ভুল রয়েছে।
পুরস্কার প্রদানকারী দেশটির নাম ভুলভাবে লেখা হয়েছে। রিপাবলিক অব সেশেলসের বদলে লেখা হয়েছে রিপাবলিক অব সেশেলিস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে মোদির এই পদক এবং কূটনীতির পেছনের আসল রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে।
সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনি মোদিকে পরিবেশবান্ধব অবদানের জন্য যে পদকটি প্রদান করেন, সেই পদকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসতেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। শুধু বানান ভুলই নয়, বিভিন্ন সফটওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে সার্টিফিকেটটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
এ নিয়ে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেন, "বিশ্ব এখন মোদিকে চিনে গেছে, যেকোনো একটা পুরস্কারের লোভ দেখান, তিনি দৌড়ে চলে আসবেন।" এতটাই তাড়াহুড়ো ছিল যে সেশেলস নিজ দেশের নামটাই ভুল লিখে ফেলল। তীব্র বিতর্কের মুখে সেশেলস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফাই গেয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যটি একটি ওয়ার্কিং ড্রাফট বা খসড়া ছিল এবং আসল সনদটি অনবদ্য।
জানা গেছে, বিশেষ করে মোদির জন্য এই ধরনের পদক নির্মাণ করা হয়। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক নিতাশা কাউল আলজাজিরাকে বলেন, "এই পুরস্কারগুলোর সঙ্গে ভারতের বৈদেশিক কূটনীতির কোনো সম্পর্ক নেই, এগুলো শুদ্ধুমাত্র মোদির ব্যক্তিগত ইমেজ তৈরির প্রচারণা।" ১২ বছরের শাসনামলে মোদি ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন, যার অনেকগুলোই তাঁর সফরের ঠিক আগে তৈরি করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে মোদির ইসরায়েল সফরের ঠিক আগে সে দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল নামক একটি সম্পূর্ণ নতুন পুরস্কার তৈরি করে, যা মোদিকে ছাড়া আর কোনো বিশ্বনেতা পাননি। গত জুন মাসে স্লোভাকিয়া সফরের সময় মোদিকে সে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ডাবল ক্রস ফার্স্ট ক্লাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া সফরেও তিনি পেয়েছেন বিনতাং আদিপূর্ণা পদক।
২০১৯ সালে মোদি ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিটের প্রথম ফিলিপ কোটলার প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড পান, যা প্রতি বছর বিশ্বনেতাদের দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মোদির পর গত সাত বছরে আর কোনো বিশ্বনেতাকে এই পদক দেওয়া হয়নি।
মোদি ও তাঁর দল বিজেপি সবসময় দাবি করে যে এই আন্তর্জাতিক পদকগুলো ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মান হিসেবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এতে কোনো কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সুবিধা দেখছেন না। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়ান হল বলেন, "নয়াদিল্লি যুক্তি দিতে পারে যে এগুলো বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রমাণ, তবে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক বা কৌশলগত স্বার্থে এর কোনো বাস্তবিক অবদান নেই।" বরং এটি প্রমাণ করে যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসল কাজের তুলনায় নিজের প্রচারণায় বেশি মনোযোগী।
মোদির জীবনীকার নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মতে, এই পুরস্কারের শিকারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ভক্ত এবং ভোটারদের কাছে নিজেকে বিশ্বনেতা হিসেবে জাহির করা। কিন্তু সেশেলসের মতো দেশগুলোতে তাড়াহুড়ো করে বানান ভুল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি সার্টিফিকেট গ্রহণের এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে সম্মানিত করার চেয়ে বেশি হাস্যরসের খোরাক দিচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন