প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। কিশোরীটি রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। এক পর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে ধরে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়ার পাশাপাশি মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে।
এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ভুক্তভোগী কিশোরীর দেহের বিভিন্ন স্থানে গরম চামচ ও খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়ার দাগ দেখা যাচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীর মা দাবি করেছেন যে, ঘটনাটি পারিবারিকভাবে ‘মীমাংসা’ করা হয়েছে।
ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীকে তার পরিবার দূরসম্পর্কের দাদা জামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠায়। সেখানে ফুপাতো বোন তাসলিমা বেগম, তার স্বামী রাজা মিয়া এবং ফুপাতো আরেক ভাইবোন মিলে তাকে জোর করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। রাজি না হলে তাকে বিভিন্ন সময়ে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হতো। ১০-১২ দিন আগে কিশোরীটি পালিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। গত বুধবার সন্ধ্যায় বাজারে গেলে তাকে আবার জোর করে তুলে ফুপার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে মুখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বাসাবাড়িতে কাজের কথা বলে কিশোরীকে নিয়ে নির্যাতন ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। পরে বাজার থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার কথা কিশোরী তাদের জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বজনরা বিষয়টি ৫০ হাজার টাকায় মীমাংসা করে কিশোরীকে মাত্র ছয় হাজার টাকা দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ছিলেন। তবে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, কিশোরী ও তার পরিবারকে সেখানে আসতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া অভিযুক্তদেরও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।
কিশোরীর মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ঘটেছে এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ও অভিযুক্তরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলায় ভুক্তভোগী পরিবারটি কোনো অভিযোগ করতে চাচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন