প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দুই দশকের উপস্থিতির পর ইরাকের সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার ফলে দেশটিতে চরম নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং উগ্রপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তেহরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তিকে একটি বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে এই সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি হলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে চূড়ান্তভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। ইরাকে বিভিন্ন প্রক্সি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরানের প্রভাব ইতিমধ্যেই ব্যাপক।
২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনী অভিযানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্রোহ দমন অভিযান চলে—প্রথমে সাদ্দাম-সমর্থক এবং পরে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে। কিন্তু একপর্যায়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যা আইএসের উত্থানের পথ তৈরি করে।
২০১১ সালের শেষ দিকে প্রথম দফায় ওয়াশিংটন ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। তবে আইএসের তাণ্ডবে তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ২০১৪ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় দেশে ফিরে আসে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধে তারা ইরাকি বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা করে। তবে এই দীর্ঘ সময়ে আমেরিকাও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই যুদ্ধে আফগানিস্তান যুদ্ধের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে ইরাক যুদ্ধ ও অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
সাধারণ ইরাকিদের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জনপ্রিয় হলেও, দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। মার্কিন প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ গত দুই দশকের ইতিহাস স্পষ্ট শিক্ষা দিয়েছে যে—যেকোনো আকস্মিক নিরাপত্তা শূন্যতা চরম বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাকর সংঘাতের সময় ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাতজনই ইরাকে প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে গত জুলাইয়ে, যখন এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ধ্বংস করতে গিয়ে এক মার্কিন সেনা সার্জেন্ট মারা যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন