প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনায় ১০ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল পেঁচিয়ে এবং অপর প্রান্তে মুগুর ঝুলিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে একটি মাদরাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) রাতে নগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন শলুয়া এলাকার হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিন নামের ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর বাবা তার ছেলে মো. মিরাজুল ইসলামকে হাফেজ বানানোর আশায় স্থানীয় ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করান। কিন্তু মাদ্রাসার মুহতামিম আসলাম উদ্দিন শিশুটিকে দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজ করানোর পাশাপাশি গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন শ্রমে বাধ্য করতেন। এর ফলে শিশুটি আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হতো। এছাড়াও তাকে বিভিন্ন অজুহাতে শাস্তিও দেয়া হতো।
শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, নির্যাতনের কারণে মিরাজুল প্রায়ই মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসত। সে কোনোভাবেই সেখানে থাকতে চাইত না। পরে তার নানিকে সঙ্গে দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনার জন্য ছেলেকে মাদরাসায় পাঠানো হয়। কিন্তু মাদরাসার শিক্ষক নানা কথা বলে নানিকে বুঝিয়ে মিরাজুলকে সেখানে রেখে দেন।
তিনি আরও জানান, নানি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে একটি কক্ষে আটকে রেখে আবারও মারধর করা হয়। এ সময় তার পায়ে শিকল পেঁচিয়ে অপর প্রান্তে একটি মুগুর ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বাইরে থাকা এক ব্যক্তি জানালা দিয়ে বিষয়টি দেখে শিশুটিকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে প্রস্রাব করার কথা বলে কক্ষ থেকে বের হয়ে ওই ব্যক্তির সহায়তায় মিরাজুল সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
বাড়িতে এসে পুরো ঘটনা মাকে জানালে তিনি আড়ংঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে।
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হালিমুর রহমান বলেন, 'রোববার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন