প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ধর্ষণের শিকার হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে এক স্কুলছাত্রী (৮) যা দ্বিতীয় শ্রেণীর। গুরুতর জখম ওই শিশুটির সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির সার্বিক চিকিৎসার ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেন।
সোমবার রাতে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে যান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম, ইসতিয়াক আহমেদ অপু ও মো. শাহেদ হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, সাত বছর বয়সী একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিতে এসেছি এবং চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করেছি। শিশুটিকে কেবিন থেকে বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। সে শারীরিকভাবে এখন আশঙ্কামুক্ত; তবে কিছুটা মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে সমর্থন জানাচ্ছি এবং তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
এর আগে রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়, সোমবার রাতে শিশুর মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আহসান উল্লাহ (১৬) নামের এক কিশোরকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। রোববার বিকেলে, বাড়ির পাশে খেলার সময় প্রতিবেশী আহসান উল্লাহ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে হাত ধরে পাশের একটি একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটি জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার হয়।
একপর্যায়ে, শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে কান্নাকাটি করতে থাকে। এ সময় শিশুটির এক আত্মীয় ঘটনাটি দেখে ফেললে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির শরীরে ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, এ ঘটনার জন্য থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন