প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহরণের ১২ দিন পর নিখোঁজ যুবকের ‘মাথাবিহীন’ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে এপিবিএন পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে।
শনিবার রাত ১১ টার দিকে উখিয়া উপজেলার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের সেফটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান, ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।
মৃত আব্দুল হাফেজ (২৫) একই ক্যাম্পের মো. নুরুজ্জুহার ছেলে। তিনি পেশায় ক্ষুদ্র দোকানি ছিলেন।
নিহতের বাবা নুরুজ্জূহার বলেন, গত ২২ জুন রাতে জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গার ক্যাম্পের স্থানীয় স্টেশনের দোকান থেকে আব্দুল হাফেজ ঘরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কয়েকজন যুবক তাকে তুলে নিয়ে যায়। ওইদিন রাতে ঘরে না ফেরায় সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাননি।
পরে ঘটনার দুইদিন পর গত ২৪ জুন স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ বরাবরে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়।
ভুক্তভোগী বাবা আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে আব্দুল হাফেজের সন্ধানের এক পর্যায়ে ক্যাম্পের স্থানীয়রা জানায়- ঘটনার দিন এইচ-ব্লক এলাকায় কতিপয় লোকজনকে মারধর করতে দেখেছিলেন। পরে ওই তথ্যের সূত্র ধরে খোঁজ নিতে গেলে একটি বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। এসময় সেপটিক ট্যাংকটির ঢাকনা খুললে মাথাবিহীন মৃতদেহ দেখতে পান। পরে ক্যাম্পের স্থানীয় এপিবিএন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ২৪ জুন ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর থেকে নিখোঁজের সন্ধানে পুলিশ তৎপরতা শুরু করলেও সন্ধান পাননি। শনিবার রাতে স্থানীয়দের খবরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় সেপটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে মাথাবিহীন অর্ধগলিত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
লাশটি পচে যাওয়ায় অন্তত ৮/১০ দিন আগে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা সেপটিক ট্যাংকের ভিতরে ফেলে দেয় বলে ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, কারা, কী কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ তা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের দুইপক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
তারপরও ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন