প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবারের মতো সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘কারাম’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সমতলের আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসন ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
ঢাক-ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ওঁরাও সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী এবং বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে আসা ওঁরাও সম্প্রদায়ের মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও আমন্ত্রিত অতিথিরাও এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
শোভাযাত্রা শেষে ওঁরাও সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী উলুধ্বনি ও প্রদীপ জ্বালিয়ে উপাচার্যসহ অতিথিদের বরণ করা হয়। পরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে একটি ‘কারাম’ গাছের চারা রোপণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এ সময় বলেন, "ওঁরাও সম্প্রদায় অসামান্য পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে অর্থনৈতিক অবদানের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে এ সম্প্রদায় অনেক পিছিয়ে পড়বে।"
তিনি আরও বলেন, "সুতরাং প্রতিটি সন্তানকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে, যাতে সর্বক্ষেত্রে তাদের পদচারণা নিশ্চিত হয়। নিজেদের কখনো প্রান্তিক বা বিচ্ছিন্ন ভাবলে চলবে না। বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও যোগ্যতার শক্তিতে সমাজ ও দেশের মূলধারায় নিজেদের মেলে ধরতে হবে।"
কারাম উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি শীত কুমার উরাং (খাঁখাঁ) জানান, "মাঠ থেকে ফসল তোলার পর সৃষ্টিকর্তা ও পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং আগামী মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় কারাম দেবতার পূজা করা হয়।" তিনি বলেন, "এ উৎসবের বিশেষ রীতি হলো, উৎপাদিত ফসলের এক-তৃতীয়াংশ নিজেদের খরচের জন্য রেখে বাকি দুই-তৃতীয়াংশ প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা।"
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উৎসবের প্রথম দিনে ধর্মীয় আচার মেনে কারাম গাছের ডাল কেটে এনে অস্থায়ী বেদিতে স্থাপন করা হয়। পরে সেখানে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রাতে বেদির চারপাশে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গানের আসর বসে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জলাশয়ে কারাম গাছের ডাল বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, ‘কারাম’ মূলত ওঁরাও সম্প্রদায়সহ সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব। ভাদ্র মাসে কৃষি ও প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে এই পরব পালিত হয়। প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে কারাম গাছের পূজা করে ফসলের সুরক্ষা, পরিবারের সুখ-শান্তি এবং ভাই-বোনের মঙ্গল কামনা করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন