প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জেবিনিয়ানায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের হেফাজতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়ার সময় কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পর এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন শহরে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যখন তিউনিসিয়া গভীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর উপশহর ইততাধামেনে মাদক ব্যবসার সন্দেহে আটক হওয়া এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ওই ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারটি মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির মৃত্যু মাদক গিলে ফেলার কারণে হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে, টায়ারে আগুন দেয় এবং পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই এলাকায় ন্যাশনাল গার্ডের একটি স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সময় নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় স্ফ্যাক্স গভর্নরেটের জেবিনিয়ানা শহরেও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়ার সময় এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগের পর সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তিউনিসিয়ার গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়িতে আগুন দেন এবং টায়ার পোড়ান। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
স্ফ্যাক্স শহরে আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত এক ছাত্রীর মৃত্যুর জন্য তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে দায়ী করেছেন। ওই ছাত্রীর সহপাঠীদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছিল। তাঁরা চিকিৎসাসুবিধার ঘাটতিকে এর জন্য দায়ী করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার স্ফ্যাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবারের এই বিক্ষোভগুলো এমন সময়ে হয়েছে, যখন তিউনিসিয়ায় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। জীবনযাত্রার অবনতি এবং জনসেবার নিম্নমান নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এতে দেশজুড়ে আরও বড় আকারে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাজধানীতে কয়েক হাজার মানুষ প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, সাঈদ গণতন্ত্রকে দুর্বল করছেন এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন।
এদিকে বুধবার তিউনিসিয়ার একটি সামরিক আদালত বিরোধী রাজনীতিক ওলফা হামদিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং সামরিক বাহিনীকে আদেশ অমান্য করতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট সাঈদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন