প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রানা, চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি এবং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সাবেক শিক্ষার্থী এখনও উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত তারা উপাচার্য ভবন থেকে বের হতে পারেননি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১ টা থেকে তারা অবরুদ্ধ রয়েছেন। রাত আটটায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগপূর্বক ভবন ত্যাগ করার জন্য আল্টিমেটাম প্রদান করলেও উপাচার্য এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
ভেতরে আটকে থাকা নতুন উপাচার্য জানান, শিক্ষার্থীদের কাছে তার কাছে কোনো লিখিত দাবি নেই এবং কোনো বক্তব্যও নেই। তিনি বলেন, "যদি তারা লিখিত আকারে দাবি জানায়, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিকে অবহিত করতেন।" এছাড়া জানা যায়, অবরুদ্ধ অবস্থায় গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তার সাথে থাকা দুজন।
এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, "আমার সাথে চারজন এলামনাই সদস্য আছেন, একজন আমার বন্ধু, দুজন বড়ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রও আছে ৬-৭ জন। তারা আন্দোলন করুক, সমস্যা নাই। কিন্তু আমি দপ্তরে আসলাম নয়টায়, তাঁর দুই-তিন ঘন্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেয়াটা অমানবিক।"
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, গত সোমবার সকাল নয়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। গতকাল সোমবার তাঁরা অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ পরিস্থিতিতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন